সংবাদ বিজ্ঞপ্তি/ পিসিপি/ তারিখ: ৩ এপ্রিল ২০২৬ খ্রি:

স্মারক: প্রকাশের জন্য সংবাদ                                                  তারিখ: ৩ এপ্রিল ২০২৬

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

পিসিপির ২৮ তম কাউন্সিল সম্পন্ন: সভাপতি সমর চাকমা, সাধারণ সম্পাদক সোহেল চাকমা ও সাংগঠনিক সম্পাদক রোনাল চাকমা, ২৫ সদস্য বিশিষ্ট নতুন কমিটি গঠন, পার্বত্য চট্টগ্রামে পূর্ণস্বায়ত্তশাসন মেনে নিতে বিএনপি সরকারের প্রতি আহ্বান

বাংলাদেশে বসবাসরত সকল সংখ্যালঘু জাতিগুলোকে নিজ নিজ জাতিগত পরিচয়ে সাংবিধানিক স্বীকৃতি ও প্রথাগত ভূমি অধিকার নিশ্চিতসহ পার্বত্য চট্টগ্রামে পাহাড়ি জনগণের ন্যায্য দাবি পূর্ণস্বায়ত্তশাসন মেনে নেওয়ার জন্য বিএনপি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ (পিসিপি)। আজ শুক্রবার (৩ এপ্রিল ২০২৬) বিকাল ৫ টায় ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ে সন্ত্রাস বিরোধী রাজু ভাস্কর্যে পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের ২৮ তম কেন্দ্রীয় কাউন্সিল পরবর্তী ছাত্র সমাবেশে পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের নেতৃবৃন্দ এই আহ্বান জানান।
“পার্বত্য চট্টগ্রামে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কর্তৃক মানবাধিকার লঙ্ঘনের উস্কানি, রুখে দাঁড়াও গণতান্ত্রিক শক্তি; অব্যাহত সেনা অভিযান দমন-পীড়ন বন্ধ ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিতের দাবিতে এক হও, লড়াই করো” এই আহ্বানে আয়োজিত ছাত্র সমাবেশে পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের নবগঠিত কমিটির সভাপতি সমর চাকমার সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক সোহেল চাকমার সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের সাবেক সভাপতি অমল ত্রিপুরা ও গণতান্ত্রিক ছাত্র জোটের সমন্বয়ক দীলিপ রায়। স্বাগত বক্তব্য রাখেন পিসিপির সাংগঠনিক সম্পাদক রোনাল চাকমা। এসময় সংহতি জানিয়ে উপস্থিত ছিলেন গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিলের সভাপতি ছয়েদুল হক নিশান, বিপ্লবী ছাত্র-যুব আন্দোলনের সহ-সভাপতি নাঈম উদ্দীন।
সমাবেশে পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের নেতৃবন্দ বলেন, ‘স্বাধীনতর ৫৫ বছর পরেও এদেশে বসবাসরত সংখ্যালঘু জাতিগুলোর সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেয়া হয়নি। তাদেরকে ‘উপজাতি, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী’ হিসেবে আখ্যায়িত করে তাদেরকে হেয় করা হয়েছে। তাদের জাতিগত পরিচয় মুছে দিতে বাঙালি হয়ে যেতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তাদের জাতিগত পরিচয় ও অস্তিত্বকে হুমকির মুখে ঠেলে দেওয়া হয়েছে।’ নেতৃবৃন্দ বাংলাদেশে বসবাসরত সকল সংখ্যালঘু জাতিগুলোকে নিজ নিজ জাতিগত পরিচয়ে সাংবিধানিক স্বীকৃতি প্রদান এবং তাদের প্রথাগত ভূমি অধিকার নিশ্চিত করার জন্য নতুন বিএনপি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। তারা আরো বলেন,‘বাংলাদেশের শাসকগোষ্ঠী যুগ যুগ ধরে পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত পাহাড়ি জনগণের ওপর নির্যাতন, শোষণ, বঞ্চনা ও দমন-পীড়ন অব্যাহত রেখেছে। অতীতে বিভিন্ন সরকার পাহাড়ের সমস্যাকে শান্তিপূর্ণভাবে সমাধানের উদ্যোগ না নিয়ে সামরিক বল প্রয়োগের মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করেছে। ১৯৯৭ সালে জনসংহতি সমিতির সাথে আওয়ামী লীগ সরকার একটি চুক্তি করলেও সমস্যার প্রকৃত সমাধান হয়নি। এখনো সেখানে অতীতের মতো সেনাশাসন বলবৎ রাখা হয়েছে।’ তারা স্পষ্টভাবে বলেন, ‘পার্বত্য চট্টগ্রামে বিরাজমান সমস্যা সামরিক শাসন কিংবা অর্থনৈতিক উন্নয়নের মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব নয়। এই সমস্যা একটি রাজনৈতিক সমস্যা। তাই সরকারকে পার্বত্য চট্টগ্রামে চলমান সেনাশাসন প্রত্যাহারপূর্বক শান্তিপূর্ণ আলোচনার মাধ্যমে রাজনৈতিক সমাধানের উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে এবং পাহাড়িদের ন্যায্য দাবি পূর্ণস্বায়ত্তশাসন মেনে নিতে হবে।’
পার্বত্য চট্টগ্রামে মানবাধিকার বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করে পিসিপির নেতৃবৃন্দ বলেন, ‘বিএনপি সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গত ১১ মার্চ ‘সিটিজেনস প্ল্যাটফর্ম ফর এসডিজিস, বাংলাদেশ’ আয়োজিত সেমিনারে বাংলাদেশের আঞ্চলিক অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্বের হুমকির কারণে পার্বত্য চট্টগ্রামে শতভাগ মানবাধিকার নিশ্চিত করা সম্ভব নয় এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের এক্তিয়ারের বাইরে রাখতে হবে বলে যে বক্তব্য দিয়েছেন তা সেনাবাহিনী ও সেটলারদেরকে মানবাধিকার লঙ্ঘনে প্ররোচনা ও উৎসাহিত করার সামিল। আমরা তার এই মানবাধিকার-বিরোধী বক্তব্যের নিন্দা জানাই এবং উক্ত বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি জানাই।’ পিসিপির নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, ‘আওয়ামী লীগের শাসন আমলে পার্বত্য চট্টগ্রামের ব্যাপারে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের জারি করা ১১-দফা গোপন নির্দেশনার মাধ্যমে সেনাশাসনকে বৈধ্যতা দেওয়া হয়েছিল। বিএনপি সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও এক ধাপ এগিয়ে সেনাবাহিনীকে মানবাধিকার লঙ্ঘনের লাইসেন্স প্রদান করলেন এবং একই সাথে তাদেরকে দায়মুক্তি দিলেন।’ পার্বত্য চট্টগ্রামে সেনাশাসন তুলে নিয়ে প্রকৃত গণতান্ত্রিক শাসন কায়েম করার দাবি জানিয়ে নেতৃবৃন্দ বলেন, ‘সমতলে গণতন্ত্র থাকবে, কিন্তু পার্বত্য চট্টগ্রামে থাকবে সেনাশাসন, সেটা হতে পারে না। পাহাড়ি জনগণ কী অপরাধ করেছে যে, তাদেরকে সাংবিধানিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হবে, তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেয়া হবে! এমন বৈষম্যের জন্য ২৪-এর গণঅভ্যুত্থান হয়নি।’ তারা আবু সাঈদ ও মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধসহ অভ্যুত্থানে শহীদদের বৈষম্য-বিরোধী চেতনার সাথে বেঈমানী না করার জন্য বিএনপি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
সমাবেশে ছাত্র জোটের সমন্বয়ক ও বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর সভাপতি দীলিপ রায় বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বম জাতিগোষ্ঠীকে কারাগারে বন্দী করে রাখা হয়েছে। একটা পুরো জাতিগোষ্ঠীকে সন্ত্রাসী চিহ্নিত করে বন্দী করে রাখাটা আমরা পশ্চিম পাকিস্তান আমলে দেখেছিলাম। বাঙালি জাতিগোষ্ঠীকে পশ্চিম পাকিস্তানিরা যেভাবে নির্যাতন করেছে বাংলাদেশের শাসকগোষ্ঠী সেভাবে পাহাড়িদের ওপর নিপীড়ন চালাচ্ছে। শেখ মুজিব আমলে পাহাড়ে সেনা মোতায়েন করা হয়েছে, জিয়াউর রহমানের আমলে সেটলার পুনর্বাসন করেছে। তিনি পাহাড়কে মুক্ত করতে এদেশের পাহাড় সমতলের শ্রমিক, কৃষক, নিপীড়িত জাতি ও মেহনতি মানুষের গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠন করতে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।
পিসিপি’র ২৮তম কেন্দ্রীয় কাউন্সিল সম্পন্ন: সমাবেশের আগে সকাল ৯ টা থেকে বিকাল ৫ টা পর্যন্ত বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ (পিসিপি)-এর ২৮তম কেন্দ্রীয় কাউন্সিল সম্পন্ন হয়। এতে সর্বসম্মতিক্রমে সমর চাকমাকে সভাপতি, সোহেল চাকমাকে সাধারণ সম্পাদক ও রোনাল চাকমাকে সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত করে ২৫ সদস্য বিশিষ্ট নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন করা হয়েছে। “জাতীয় অস্তিত্ব বিকিয়ে দেয়ার গড্ডালিকা প্রবাহে গা না ভাসিয়ে, এসো পূর্ণস্বায়ত্তশাসনের গৌরবদীপ্ত লড়াইয়ে যুক্ত হই” স্লোগানে ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের সমাজ বিজ্ঞান অনুষদের মোজাফ্ফর আহমেদ চৌধুরী অডিটোরিয়ামে পিসিপির দলীয় সঙ্গীত “পাহাড়ি ছাত্র-ছাত্রী দল” গানটি পরিবেশনের মাধ্যমে কাউন্সিল অধিবেশন উদ্ধোধন করা হয়।
এরপর লড়াই সংগ্রামে আত্মোৎসর্গকারী সকল বীর যোদ্ধাদের স্মরণে শোকপ্রস্তাব পাঠ করেন পিসিপির শিল্প সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক রূপসী চাকমা। এছাড়াও প্রখ্যাত বামপন্থী তাত্ত্বিক,পাহাড়ি জনগণের অকৃত্রিম বন্ধু ও জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের তৎকালীন সভাপতি প্রয়াত বদরুদ্দীন উমরের প্রতি শোক ও শ্রদ্ধা জানানো হয়। শোকপ্রস্তাব পাঠ শেষে সকল শহীদদের শ্রদ্ধা ও সম্মান জানিয়ে ২ মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

এরপর কাউন্সিলের উদ্বোধনী অধিবেশনে পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের সভাপতি অমল ত্রিপুরা সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক শুভাশীষ চাকমার সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন ইউনাইটেড ওয়ার্কার্স ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের সহ-সাধারণ সম্পাদক প্রমোদ জ্যোতি চাকমা, গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের সভাপতি জিকো ত্রিপুরা ও হিল উইমেন্স ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক রিতা চাকমা।
পিসিপির বিদায়ী সভাপতি অমল ত্রিপুরা বলেন, ১৯৮৯ সালে লংগদু গণহত্যার প্রতিবাদের মধ্য দিয়ে পিসিপি’র জন্ম। পিসিপি’র আবির্ভাব হওয়ার ফলে সেনাশাসকগোষ্ঠী বুঝে যায় যে তারা আর আগের মতো দুঃশাসন চালাতে পারবে না। তাই তারা ছাত্র সমাজের প্রতিবাদী কণ্ঠ স্তব্ধ করে দিতে শুরু থেকে দমন-পীড়ন চালায় এবং ষড়যন্ত্র ও কূটকৌশলের আশ্রয় নেয়। ছাত্রদের সুবিধাবাদী সুযোগসন্ধানী অংশকে সেনা ব্রিগেড থেকে অর্থ, জেলা পরিষদ ও ডিসি অফিসের চাল-গমের বরাদ্দ দিয়ে আন্দোলনে বিভ্রান্তি ও বিভক্তি সৃষ্টির করার চেষ্টা চালায়। কিন্তু সে সময়কার ছাত্রদের মধ্যেকার প্রকৃত লড়াই-সংগ্রামীরা বিক্রি হয়ে যায়নি, শাসকের কাছে নিজেদের নীতি-আদর্শকে সমর্পণ করেনি। শাসকগোষ্ঠী কর্তৃক পরিচালিত হত্যা,গুম, খুন, মিথ্যা মামলা-হুলিয়া এবং সকল ধরনের অন্যায় নিপীড়নের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে ছাত্র সমাজ প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ সংগ্রাম গড়ে তোলে। লড়াকু ছাত্র সমাজের আন্দোলনে সেনা-শাসকগোষ্ঠির ষড়যন্ত্র ভেস্তে যায়। পিসিপির আপোষহীন ধারার নেতৃত্বে উত্তাল ছাত্র আন্দোলনের ফলে খড়কুটোর মতো ভেসে যায় দালাল-আপোষকামী গোষ্ঠী।
ছাত্রসমাজের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, শাসকগোষ্ঠী অতীতের ন্যায় বর্তমানেও ছাত্র সমাজকে নানা প্রলোভন দেখিয়ে আন্দোলন থেকে দূরে রাখার চক্রান্ত করে যাচ্ছে। পাহাড়িদের মধ্যেকার বিভিন্ন জাতিকে নানা উস্কানি দিয়ে সাম্প্রদায়িক বিভেদ সৃষ্টির অপচেষ্টা চালাচ্ছে। পাহাড়ি অধ্যুষিত এলাকায় ছাত্র-যুবকদের মাঝে ব্যাপক মাদক ছড়িয়ে দিয়ে ভবিষ্যত নেতৃত্ব ধ্বংস করার ষড়যন্ত্রে মেতে উঠেছে। কাজেই পাহাড়ে প্রত্যেকটি ছাত্র-যুব সমাজকে এই বিষয়ে সর্বদা সতর্ক থাকতে হবে। কোন অপশক্তি যেন জাতিগত বিভেদ তৈরি করতে না পারে সেজন্য সকলকে সজাগ থাকতে হবে এবং সম্মিলিতভাবে তা প্রতিহত করতে হবে। ছাত্রসমাজকে কারোর প্ররোচনায় অর্থাৎ গড্ডালিকা প্রবাহে গা ভাসিয়ে না দিয়ে, স্রোতের বিপরীতে দাঁড়িয়ে সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে অবিচল থেকে লড়াই সংগ্রামে এগিয়ে আসতে হবে। যে কোন পরিস্থিতিতে জাতীয় অস্তিত্ব বিকিয়ে দেয়ার ষড়যন্ত্র রুখে দিতে হবে। দালালি-লেজুড়বৃত্তি ও আত্মকেন্দ্রিকতার পথ পরিহার করে জাতির দুর্দিনে আন্দোলনে সামিল হতে হবে। ছাত্রনেতা অমল ত্রিপুরা জাতীয় ঐক্যের আহ্বান জানিয়ে বলেন, “বিভেদ নয়, ঐক্যেই জাতীয় মুক্তি। শাসকগোষ্ঠীর ‘ভাগ কর, শাসন কর’ নীতির ফাঁদে পা না দিয়ে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।’
নারী নেত্রী রিতা চাকমা বলেন, পাহাড়-সমতলে নারীদের ওপর নিপীড়ন অব্যাহত রয়েছে। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের রিপোর্ট অনুযায়ী গত মার্চ মাসেই সারা দেশে ৪৭ জন নারী ও কন্যাশিশুকে প্রাণ হারাতে হয়েছে। একই সময়ে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন আরও ৫৭ জন। পাহাড়ের চিত্র আরো ভয়াবহ উল্লেখ করে তিনি বলেন, পাহাড়ি নারী-শিশুরা নিজ বাসগৃহে, রাস্তাঘাটে, ক্ষেতে-খামারে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ধর্ষণ, নির্যাতন, শ্লীলতাহানি, খুন, অপহরণের শিকার হচ্ছে। এসব ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার হয় না। তিনি অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে এবং সম্ভ্রম রক্ষার্থে সোচ্চার হয়ে আন্দোলনে সামিল হওয়ার জন্য নারী সমাজের প্রতি আহ্বান জানান।
যুবনেতা জিকো ত্রিপুরা বলেন, পাহাড়িদের অস্তিত্ব ধ্বংস করতে নানা ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। প্রতিনিয়ত পাহাড়িদের ভূমি কেড়ে নেয়া হচ্ছে। পাহাড়িরা নিজেদের জায়াগায় ঘরবাড়ি নির্মাণ করতে পারছে না, প্রশাসন ও সেটলাররা তাতে বাধা দিচ্ছে। এমন জঘন্য অন্যায় অবিচারের বিরুদ্ধে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে লড়াই করতে হবে।
শ্রমিক নেতা প্রমোদ জ্যোতি চাকমা বলেন, শ্রমিকরা শ্রমের ন্যায্য মূল্য-বেতন পায় না। তারা কাজ হারানোর ভয়ে এসবের বিরুদ্ধে কথা বলতে পারেন না। শিল্প কারখানায় শ্রমিকদেরকে অনিরাপদ পরিবেশে কাজ করতে হয়। প্রায় সময় পাহাড়ি শ্রমিকদের বিরুদ্ধে হামলা, নির্যাতন ও বৈষম্য করা হয়ে থাকে। এসব ঘটনা বন্ধের জন্য কারখানার মালিক কিংবা প্রশাসনের পক্ষ থেকে উপযুক্ত কোন পদক্ষেপ নেওয়া হয় না। তিনি বলেন, ঈদ, দূর্গা পূজার সময় শ্রমিকদের জন্য ছুটির ব্যবস্থা থাকলেও পাহাড়িদের প্রধান সামাজিক উৎসব বৈসাবি উদযাপনের জন্য কোন পাহাড়ি শ্রমিককে ছুটি দেওয়া হয় না। ফলে এই উৎসবের দিনে পাহাড়ি শ্রমিকরা তাদের পরিবাবর পরিজনের সাথে আনন্দ উপভোগ হতে বঞ্চিত হয়। তিনি শিল্প কারখানায় শ্রমিকদের নিরাপত্তা, শ্রমিকদের ন্যূনতম বেতন বৃদ্ধি ও বৈসাবি উপলক্ষে পাহাড়ি শ্রমিকদের জন্য ৫দিনের ছুটি নিশ্চিত করতে কারখানার মালিক ও সরকারের প্রতি দাবি জানান।
কাউন্সিলের ২ য় অধিবেশনে সংগঠনের বার্ষিক রাজনৈতিক, সাংগঠনিক, আর্থিক ও দাপ্তরিক প্রতিবেদন পেশ করেন যথাক্রমে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক, সাংগঠনিক, অর্থ ও দপ্তর সম্পাদকগণ। উত্থাপিত প্রতিবেদনের উপর উপস্থিত প্রতিনিধিবৃন্দ আলোচনা-সমালোচনা ও নিজেদের মতামত উপস্থাপন করেন। এছাড়া কাউন্সিলে অংশগ্রহণকারী পার্বত্য চট্টগ্রামসহ সারাদেশের বিভিন্ন শাখার প্রতিনিধিরা তাদের স্ব স্ব শাখার সাংগঠনিক অবস্থা ও আগামী দিনের কর্মসূচি সম্পর্কে প্রস্তাবনা ও মতামত তুলে ধরেন।
কাউন্সিলের ৩ য় অধিবেশনে পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি অমল ত্রিপুরা নতুন কমিটির নেতৃত্বমন্ডলী ও সদস্যদের নাম প্রস্তাব আকারে তুলে ধরেন। প্রতিনিধিদের পর্যালোচনা ও মতামত প্রদান শেষে সর্বসম্মতিক্রমে সমর চাকমাকে সভাপতি, সোহেল চাকমাকে সাধারণ সম্পাদক ও রোনাল চাকমাকে সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত করে ২৫ সদস্য বিশিষ্ট নতুন কমিটি গঠন করা হয়।
নতুন কমিটিকে শপথবাক্য পাঠ করান বিদায়ী কমিটির সভাপতি অমল ত্রিপুরা। এরপর নতুন কমিটিকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেন হিল উইমেন্স ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক রিতা চাকমা, গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের জিকো ত্রিপুরা, পিসিপির সাবেক সভাপতি অঙ্কন চাকমা ও সদ্য বিদায়ী কমিটির সভাপতি অমল ত্রিপুরা। এছাড়াও নতুন কমিটির পক্ষ থেকে সংগঠন থেকে সদ্য বিদায় নেওয়া পিসিপির সভাপতি অমল ত্রিপুরা, সহ-সভাপতি কুনেন্টু চাকমা, সহ-সভাপতি থুইলাপ্রু মারমা, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অর্নব চাকমা, তথ্য প্রচার সম্পাদক তনুময় চাকমা, সাংস্কৃতিক সম্পাদক রূপসী চাকমাকে ফুল দিয়ে বিদায়ী সম্ভাষণ জানানো হয়।
কাউন্সিলের ৪ র্থ অধিবেশনে কমিটির নবনির্বাচিত সমর চাকমাকে সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক সোহেল চাকমা সঞ্চালনায় বিদায়ী কমিটির নেতৃবৃন্দ লড়াই সংগ্রামের নানা অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন এবং নবনির্বাচিত কমিটিকে আগামী দিনের সংগ্রামের নানা দিক-নির্দেশনা ও পরামর্শ প্রদান করে শুভেচ্ছা জানান। পরে নব-নির্বাচিত কমিটির সভাপতি সমর চাকমার বক্তব্যের মধ্যে দিয়ে কাউন্সিল অধিবেশন সমাপ্ত হয়।

বার্তা প্রেরক,
অনিমেষ চাকমা
দপ্তর সম্পাদক
পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ
কেন্দ্রীয় কমিটি।

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *