সংস্কার পরিষদ ও স্থানীয় সরকার ইস্যু: আন্দোলনে যবে ১১ দল

জাতীয় ডেস্ক: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ ম্যান্ডেট নিয়ে সরকার গঠন করেছে বিএনপি। সরকার গঠনের পর নির্বাচনী অঙ্গীকার পূরণে কাজ শুরু করেছে তারা। তবে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অঙ্গীকার পূরণে সরকার টালবাহানা করছে এ অভিযোগ করছে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য। পাশাপাশি স্থানীয় সরকার নির্বাচন না দিয়ে প্রশাসক নিয়োগ নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে দলগুলো। নির্বাচনের পর ৩০ দিনের মধ্যে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন ও অধিবেশন ডাকার বাধ্যবাধকতা মানেনি বিএনপি। স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বিপরীতে প্রশাসক নিয়োগে ঝুঁকেছে তারা। এখন পর্যন্ত ১১ সিটি করপোরেশন এবং ৪২ জেলা পরিষদে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

            দ্রুত স্থানীয় সরকার নির্বাচন চেয়ে ১১ দলীয় ঐক্যের নেতারা বলছে, ভোট ছাড়া স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা দলীয় নিয়ন্ত্রণে নিতে নির্বাচনের আলাপ বন্ধ করে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন নিয়ে সরকারের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি ঈদের পর যদি স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ঘোষণা না আসে তাহলে আন্দোলনের মাঠে নেমে পড়বে জানিয়েছে দলগুলো।

            ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার পলায়নের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। তখন পালিয়ে যান স্থানীয় সরকারের সব স্তরের অধিকাংশ জনপ্রতিনিধি। তাদের দীর্ঘ অনুপস্থিতিতে পদগুলো শূন্য হয়ে পড়ে। সাময়িক দায়িত্ব পালনের জন্য সিটি করপোরেশন, জেলা পরিষদ, পৌরসভা ও উপজেলা পরিষদে সরকারি কর্মকর্তাদের প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছিল অন্তর্বর্তী সরকার। আগামী ২৮ মার্চ ১১ দলের শীর্ষ নেতারা বৈঠকে বসবেন। সেখানে আগামী দিনের আন্দোলনের রূপরেখা নির্ধারিত হবে। সে দিনের বৈঠক থেকে রাজপথে আন্দোলনের সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

            গত ১ মার্চ রাজধানীর একটি অনুষ্ঠানে নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ বলেছিল, ঈদের পর থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সব প্রস্তুতি নেওয়া হবে। বিএনপি তাদের ৩১ দফায় স্থানীয় সরকার নির্বাচন দেওয়ার কথা বলেছে। কিন্তু এর মধ্যেই তারা সিটি কর্পোরেশন ও জেলা পরিষদগুলোতে দলীয় নেতাদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে। দলীয় প্রশাসক নিয়োগের মাধ্যমে সরকার জন-আকাঙ্ক্ষার বিপরীতে অবস্থান নিয়েছে মনে করছে ১১ দলীয় ঐক্য।

            এ বিষয়ে দেওয়া এক বিবৃতিতে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছে, সিটি করপোরেশনে দলীয় প্রশাসক নিয়োগের পদক্ষেপ সরকারের স্থানীয় সরকার নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়ার গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ এবং একই সঙ্গে আরেকটি পাতানো নির্বাচনের প্রাথমিক ধাপ।

            এদিকে, এনসিপি মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া গত ১৫ মার্চ ‘ভোট নয়, নিয়ন্ত্রণ: স্থানীয় সরকার নিয়ে বিএনপি ক্ষমতার অপব্যবহার’ শিরোনামে ফেসবুকে একটি দীর্ঘ পোস্ট করে। সে উল্লেখ করে, বাংলাদেশে আমরা এখন এক গভীর রাজনৈতিক ভণ্ডামির সময় অতিক্রম করছি। যে দল গণতন্ত্রের বুলি আউড়িয়ে ক্ষমতায় এসেছে, সে দল স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে জনগণের হাত থেকে সরিয়ে নিয়োগ নির্ভর নিয়ন্ত্রণের পথে নিয়ে যাচ্ছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় মানুষ যে স্বপ্ন দেখেছিল, বাস্তবে সে স্বপ্নের বিপরীত এক রাজনৈতিক বাস্তবতা আমাদের সামনে দাঁড়িয়ে আছে।

            জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম এ প্রসঙ্গে বলেছে, সংবিধান অনুযায়ী প্রশাসনের সর্বস্তরে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি থাকবে। কিন্তু প্রশাসক নির্বাচিত প্রতিনিধি নন। বর্তমান সরকারের দলীয় প্রশাসক নিয়োগকে ইতিবাচকভাবে দেখার সুযোগ নেই। নির্বাচিত সরকারের অনির্বাচিত সরকারের মতো আচরণ বড় প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। দলীয় লোকদের প্রশাসক নিয়োগ দিয়ে সর্বত্র স্থানীয় প্রশাসনকে দলীয়করণের প্রজেক্ট বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে সরকার। এর মাধ্যমে সরকারি বরাদ্দ ইতোমধ্যে দলীয়করণ করা শুরু হয়েছে।

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *