
স্টাফ রিপোর্টার, বান্দরবান: বান্দরবানে এনসিপি জেলা শাখার ভার্চুয়াল সমন্বয় সভা আয়োজন করা হয়। রবিবার (১৯ অক্টোবর) রাত ৮ টায় আহবায়ক কমিটি গঠনে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন ও সাংগঠনিক শৃঙ্খলা বিষয়ে একটি ভার্চুয়াল সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ সমন্বয় সভায় সভাপতিত্ব করেন এনসিপি দলের চট্টগ্রাম বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম সুজাউদ্দীন। সভা সঞ্চালনা করেন এনসিপি জেলা প্রধান সমন্বয়ক মো: শহিদুর রহমান সোহেল। এ সময় জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপি বান্দরবান জেলা শাখার সমন্বয় কমিটির ২১ জন সদস্য উপস্থিত ছিলেন। যারা উপস্থিত ছিলেন লুক চাকমা, তপন মারমা, আব্দুল্লাহ আল মামুন, মিজানুর রহমান আখন্দ, তৌকির আজাদ অভি, নাজমুল হাসান, আশরাফুল ইসলাম, কেএম মাসুদ, বিনয় জ্যোতি চাকমা, অংথুই মারমা, আলী হায়দার রাব্বী, মো: আল মামুন, গোলাম মোস্তফা, শাহরিয়ার সাকিব, মো: ফাহিম, বিপ্লব চাকমা, এসিং মারমা, লাল পেক থার বম, রাশেদুল হাসান ও অন্যান্য সদস্যবৃন্দ। এনসিপি বান্দরবান জেলা শাখার সমন্বয় কমিটির ২ জন সদস্য আ ছা ই ম সায়েম হোসেন ও মো: আবদুল গফুর বিশেষ কারনে এ ভার্চুয়াল সভায় যোগ দিতে পারে নাই। এনসিপি বান্দরবান জেলা শাখার সমন্বয় কমিটির যুগ্ম সমন্বয় লুক চাকমা প্রেরণ করা প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ সব তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরো জানানো হয়, এনসিপি দলের চট্টগ্রাম বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম সুজাউদ্দীনের নেতৃত্বে বান্দরবান জেলা সমন্বয় সভায় আহবায়ক কমিটি গঠনে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন ও সাংগঠনিক শৃঙ্খলা বিষয়ে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এ সভায় গত ১৯ জুলাই পদযাত্রা সমাবেশ ও জেলা কমিটির গত তিন মাসের কার্যক্রম পর্যালোচনা করা হয়। জেলা এনসিপি সাংগঠনিক কাজের লামা ও আলীকদম উপজেলা কমিটি ইতোমধ্যে কেন্দ্রীয় অনুমোদন লাভ করেছে। নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা কমিটি অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। বান্দরবান সদর, রোয়াংছড়ি, রুমা ও থানছি উপজেলা কমিটি অনুমোদনের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে।
এ সমন্বয় সভায় গৃহীত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তসমূহ: জেলা আহবায়ক কমিটি গঠনে খুব শিগগির একটি সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হবে। এ সমন্বয় সভায় এনসিপি কেন্দ্রীয় কমিটির দক্ষিণাঞ্চল মুখ্য সমন্বয়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ সাংগঠনিক দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য প্রদান করবেন। এনসিপি দলের নীতিমালা অনুাযায়ী আহ্বায়ক কমিটি গঠনে সদস্যসংখ্যা সর্বনিম্ন ৫১ জন এবং সর্বোচ্চ ১০১ জন নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আহ্বায়ক নির্বাচনের ক্ষেত্রে প্রার্থীর বয়সসীমা ন্যূনতম ৪০ বছর, সদস্য সচিব পদের ক্ষেত্রে ন্যূনতম ৩৫ বছর এবং অন্যান্য সদস্য ক্ষেত্রে ন্যূনতম ৩০ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে। আহ্বায়ক কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত হতে আগ্রহী প্রত্যেক প্রার্থীকে রাজনৈতিক জীবনবৃত্তান্ত (CV) জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। উপজেলা পর্যায়ে প্রথমে সমন্বয় কমিটি গঠন সম্পন্ন হওয়ার পর আহ্বায়ক কমিটির অনুমোদন কার্যক্রম শুরু হবে। জেলা কমিটিতে সদস্য নির্বাচনে বর্তমানে সক্রিয় সদস্য এবং নতুন যোগ্য ব্যক্তিদের সমানভাবে বিবেচনা করা হবে। এ ক্ষেত্রে সক্রিয় ও কর্মদক্ষতা সদস্যরা প্রাধান্য পাবে। সদস্যদের জনগণের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক স্থাপন ও প্রচারণা কার্যক্রমে অংশগ্রহণের নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে। অর্থনৈতিক বা নারী সংক্রান্ত অনিয়মের ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করা হবে। দলীয় ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণকারী বা অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত সদস্যদের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জেলা এনসিপি নিষ্ক্রিয় সদস্যদের পুনরায় সংগঠনে অন্তর্ভুক্ত করতে ২৯ সদস্যের জেলা সমন্বয় কমিটির সভা আয়োজনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। এনসিপি জেলা ও উপজেলা কমিটির অনুমতি ছাড়া কোনো প্রশাসনিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এনসিপি দলীয় গোপন তথ্য ফাঁস করাকে শৃঙ্খলাভঙ্গ হিসেবে গণ্য করা হবে। জেলা সমন্বয় কমিটি নেতৃত্বে নিষ্ক্রিয় সদস্যদের সঙ্গে ওয়ান-টু-ওয়ান আলোচনার মাধ্যমে পুনঃসংযোগ কার্যক্রম পরিচালনা করবে। সভা শেষে উন্মুক্ত আলোচনায় অংশগ্রহণকারী সকল সদস্য দলীয় ঐক্য, স্বচ্ছতা এবং সাংগঠনিক শৃঙ্খলা বজায় রেখে জনগণের কল্যাণে একযোগে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। সভাপতি এস এম সুজাউদ্দীন ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে জেলা সমন্বয় সভা সমাপ্তি ঘোষণা করেন।

