লোহাগাড়ায় ইউএনও হস্তক্ষেপে বাল্য বিবাহ বন্ধ

পুষ্পেন চৌধুরী, লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম): চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউ এন ও) মো. সাইফুল ইসলামের নির্দেশনায় ইসপা আলম (১৫) নামে নবম শ্রেণীর এক শিক্ষার্থীর বাল্য বিবাহ বন্ধ করা হয়। শুক্রবার (২৫ জুলাই) ইসপা আলমের সাথে দরবেশ হাট এলাকার জনৈক প্রবাসী মো. আসাদের সাথে এ বিয়ে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিলো।

            জানা যায়, লোহাগাড়া সদরের আলুরঘাট এলাকার ফরিদুল আলমের কন্যা ইসপা আলম স্থানীয় ইকরা আব্দুল জব্বার উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর ছাত্রী। পারিবারিক ভাবে তার বিয়ের ঠিক করা হয়। সে অনুযায়ী ফরিদুল আলমের বাড়ীতে শুক্রবার বরযাত্রীর জন্য রান্না আয়োজন বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন ছিলো। কিন্তু দুপুরে ইউএনও মো. সাইফুল ইসলামের নির্দেশে লোহাগাড়া সদর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান ও স্থানীয় ইউপি সদস্য শাহ আলম লিটন ঘটনাস্থলে গিয়ে বিয়ের সমস্ত কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করেন। পাশাপাশি বরের মঞ্চ ভেঙে গুড়িয়ে দেন।

            এ ব্যাপারে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান বলেন, লোহাগাড়ার ইউএনও নির্দেশে আমরা বাল্য বিবাহ বন্ধ করি। একটি অপ্রাপ্ত বয়স্ক মেয়ের বিয়ে হচ্ছে দেখে আমরা এ বিয়ের সমস্ত কার্যক্রম বন্ধ করি।

            এ ব্যাপারে ইকরা আব্দুল জব্বার উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. জামাল উদ্দিন বলেন, ইসপা আমাদের স্কুলের নবম শ্রেণীর মেধাবী ছাত্রী। এ অল্প বয়সে মেয়েটির বিয়ে দেয়া এটি কোন অবস্থায় মেনে নেয়া যায়না। আমি এ কারনে অভিভাবকের শাস্তি দাবী করছি।    ইসপার পিতা ফরিদুল আলম বলেন, মেয়ের জন্য প্রবাসী ভালো পাত্র পেয়ে বিয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তবে ইওএনও নির্দেশে সে বিয়ে স্থগিত হয়েছে। পরবর্তী ১৮ বছর পূর্ণ হলে মেয়ের বিয়ে দেবো।

            লোহগাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, বাল্য বিবাহ একটি আইনগত শাস্তি যোগ্য অপরাধ। যা কোন অবস্থাতে মেনে নেয়া যায়না। ভবিষ্যতে এ ঘটনা পুনরাবৃত্তি ঘটলে তাদেরকে আইনের আওতায় আনা হবে।

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *