
পর্যটন ডেস্ক: সুন্দরবনের ডিমের চর অপরূপ সৌন্দর্য পর্যটকদের আকৃষ্ট করে। একপাশে কাশবনের সারি অন্যদিকে নরম বালির বিচ। নদীর জলরাশি আর ঢেউয়ের গর্জন সাথে হিমেল হাওয়ায় মনোমুগ্ধকর এক পরিবেশ। নৈসর্গিক সৌন্দর্যে ভরা বঙ্গপোসাগরের বুকে জেগে উঠা সুন্দরবনের ডিমের চর। সৃষ্টিকর্তা যেন রূপসী বাংলার সব রূপ ঢেলে দিয়েছে বালির আঁচলে। নদীর লোনা জলে রৌদ্রস্নান আর সূর্যাস্তের নয়নাভিরাম দৃশ্য অবলোকনসহ শরীরের প্রশান্তি জুড়াবে। ভোরের স্নিগ্ধ আলোয় সমুদ্র সৈকতের ভিন্ন রূপ আর সন্ধ্যার পরে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে মুগ্ধ হবেন যে কেউ। শরৎ বিদায় নিলে চরাঞ্চল জুড়ে প্রকৃতির সৌন্দর্য ছড়ানো কাশবন আলাদা মাত্রা যোগ করছে ডিমের চর।
সুন্দরবনে বেড়াতে পর্যটকদের পছন্দের জায়গা হয়ে উঠেছে ডিমের চর। যেখানে নির্জনতা আছে, আছে ভয়। অতিপ্রাকৃত, অপার্থিব এ চর। এর পাশে আরেকটি চর আছে, নাম হলো পক্ষির চর। নীল আকাশে সাদা মেঘের সঙ্গে ঢেউ খেলানো কাশবন ও বিচে আছড়ে পরা ঢেউয়ের সাথে ছবি তুলে ডিমের চর থেকে পর্যটকরা স্মৃতি নিয়ে ফেরেন। ডিমের চরটিকে দেখতে অনেকটা ডিমের মতো তাই এটাকে ডিমের চর বলা হয়। কটকা থেকে প্রায় আড়াই ঘণ্টা লঞ্চে চরে ডিমের চরের মোহনায় পৌঁছাতে হয়। কটকা থেকে খুব কাছে ডিমের চরের অবস্থান। এ সৈকতটি নির্জন এবং পরিচ্ছন্ন। বেলাভূমিজুড়ে শুধু দেখা যায় কাঁকড়াদের শিল্পকর্ম। অন্যপাশে বিশাল কাশবন। সন্ধ্যায় এখান থেকে বিচিত্র এক আকাশের দেখা মেলে। কটকা সি-বিচ ভেঙে যাওয়ায় পর্যটকরা এখন ডিমের চরের বিচে বেশি আসছেন। ডিমের চর সমুদ্র সৈকতের বিচের মতো। একদিকে উত্তল তরঙ্গমালা অন্যদিকে কার্বনের রাজ্য। সবমিলে অপরূপ সৌন্দর্যে ঘেরা ডিমের চর। একপাশে নদী অন্যপাশে কাশবন। পরোটা এডভেঞ্চারের মতো।

পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের সহকারী বন কর্মকর্তা (এসিএফ) শেখ মাহবুব হাসান বলেন, ডিমের চর কচিখালী অভয়ারণ্যের আওতাধীন একটি চর। ভ্রমণ পিপাসুদের কাছে এ জায়গাটি খুব আকর্ষণীয়। এখানে এলে প্রচুর হরিণ দেখা যায়। নৈসর্গিক সৌন্দর্যে ভরা মনোমুগ্ধকর এ ডিমের চরে জলরাশি ও ঢেউয়ের গর্জনের সাথে আনন্দে মেতে পর্যটকরা গোসল করেন।

