দিনাজপুরের বিনোদন কেন্দ্র স্বপ্নপুরী: আনন্দে ঘুরে আসতে পারেন স্বপ্নময় স্বপ্নপুী

পর্যটন ডেস্ক: দিনাজপুরের আনন্দে ঘুরে আসুন বিনোদন কেন্দ্র স্বপ্নপুরী। যেখানে একবার গেলে আরো যেতে মন চায়বে। শীতের মৌসুমে তো বটে, বছরের সব সময় দর্শনার্থীদের আনাগোনায় মুখরিত থাকে এ পার্ক। দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার আফতাবগঞ্জ এলাকায় এ পার্কটি অবস্থিত। ঘুরে বেড়ানো ও পিকনিকের জন্য এক অসাধারণ জায়গা এ স্বপ্নপুরী। ১৯৯০ সাল থেকে যাত্রা শুরু করে স্বপ্নপুরী। কৃত্রিম চিড়িয়াখানা, ঝর্ণাধারা, মিউজিয়াম, নৌবিহার, সবুজ গাছের ছায়া বিশ্রামাগার, দেশি-বিদেশি হাজারো ফুলের বাগান, সারি সারি দেবদারু গাছ, মাটিতে নেমে আসা কৃত্রিম রংধনু, শতাধিক পিকনিক কর্নার, মাটি ও দালানের তৈরি আকর্ষণীয় কটেজ বা রেস্ট হাউস। এছাড়া ১৯৫২ থেকে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত আন্দোলন ও সংগ্রামের চিত্র আর্টিফিসিয়ালের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মকে জানানোর জন্য দেয়ালে বা দর্শনীয় স্থানে ম্যুরাল তৈরি করা হয়। এসব তদারকি এবং দিবারাত্রি আগত ভ্রমণকারীদের নিরাপত্তা সার্বিক কাজ করে যাচ্ছেন শ্রমিক ও কর্মচারীরা।
বছরের প্রতিটি দিন বিনোদনের জন্য শত মানুষ এখানে পরিবার পরিজন নিয়ে আসে। শীত মৌসুম শুরু হওয়ার সঙ্গে শুরু হয় পিকনিক পার্টির ভিড়। বাস, মিনিবাস, মাইক্রোবাস, কার মোটরসাইকেল, বাইসাইকেল, রিকশা, ভ্যান, টেম্পো এমনকি হেঁটে বিনোদন প্রিয় মানুষ আসেন এখানে। স্বপ্নপুরীকে মানুষের কাছে স্বপ্নের মতো সাজানোর পরিকল্পনা কর্তৃপক্ষের দীর্ঘমেয়াদী। ইতোমধ্যে ২০/২৫টি চলচ্চিত্র, নাটক ও মিউজিক ভিডিও স্যুটিং হয়েছে এখানে। এছাড়া দেশ ও বিদেশের অনেক গুণী রাজনৈতিক, বুদ্ধিজীবী, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব স্বপ্নপুরী ঘুরে গেছেন। এ পিকনিক স্পটে শীত মৌসুমে ৫শ অধিক পিকনিক পার্টি আসে। পর্যটক ও ভ্রমণকারীদের থাকার জন্য কর্তৃপক্ষ মনোরম ও আকর্ষণীয় কটেজ বা রেস্ট হাউস তৈরি করেছেন। নীলপরী, রজনীগন্ধা, নিশিপদ্ম, চাঁদনী, সন্ধ্যাতারা ও রংধনু অনেক কটেজ রয়েছে। এ সব কটেজ অগ্রিম বুকিং করা যায়।

            স্বপ্নপুরীর সফল বাস্তবায়নে যিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন, তিনি হচ্ছেন প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক দেলোয়ার হোসেন। নেপথ্যে রয়েছেন তার সহোদর সাবেক সংসদ সদস্য মোস্তাফিজার রহমান ফিজু। স্বপ্নপুরীর বিল্ডিং ডিজাইন করেছেন দিনাজপুর হোম প্লানের ইঞ্জিনিয়ার দেবাশীষ। শিল্পীর তুলির আঁচড়ে স্বপ্নপুরীর ছবি হয়েছে প্রাণবন্ত। এদের মধ্যে রয়েছেন জয়পুরহাটের আজাদ হোসেন (আজাদ), বগুড়ার শিল্পী সাহেবুর রহমান (ফটন) ও নূরন্নবী প্রমুখ। স্বপ্নময় স্বপ্নপুীতে রয়েছে ভূতের রাজ্য, শিশু-কিশোরদের নানা রাইড, লেকে স্পিডবোটে ভ্রমণ, ঘোড়ার গাড়িতে ভ্রমণ, ট্রেন, ক্যাবল, কৃত্রিম পাখির রাজ্য প্রভৃতি। সবধরনের আয়োজন নিয়ে সাজানো হয়েছে বিনোদন কেন্দ্রটি।

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *