দুদকের অভিযান: ৬৯০ টাকার গ্যাস ১৫০০ টাকায় বিক্রি প্রমাণ, লুটপাট ৭০ থেকে ৮০ কোটি টাকা

অর্থনীতি ডেস্ক: সারাদেশে মাত্র ৬৯০ টাকার এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার ক্রস ফিলিংয়ের মাধ্যমে বেসরকারি সিলিন্ডারে বোতলজাত করে ১৪০০ থেকে ১৫০০ টাকা দরে অসাধুভাবে বিক্রয়ের প্রমাণ পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) এনফোর্সমেন্ট টিম। সিলিন্ডারজাত সরকারি গ্যাস বিক্রয়ে অনিয়মের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের (বিপিসি) কার্যালয়ে অভিযান পরিচালনা করতে গিয়ে এমন সত্যতা পায় দুদক। মঙ্গলবার (৬ মে) দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে সংস্থাটির সহকারী পরিচালক মো. রাজু আহমেদ, তানজির আহমেদ ও আনোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে একটি টিম অভিযান পরিচালনা করেছে।

            দুদক সূত্র জানায়, সরকারি এলপি গ্যাস বিক্রয়ে অনিয়মের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে এনফোর্সমেন্ট অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানকালে টিম সংগৃহীত রেকর্ডপত্র, সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য এবং ডিলার ও গ্রাহকদের বক্তব্য গ্রহণ করে। এ সময় বিপিসি সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠান এলপি গ্যাস প্রতি বছর প্রায় ১৩-১৪ হাজার মেট্রিক টন এলপিজি গ্যাস প্রায় ১৪ লাখ সিলিন্ডারে বোতলজাত করে ৪টি প্রতিষ্ঠান যথা  পদ্মা, যমুনা, মেঘনা ও এশিয়াটিক মাধ্যমে বাজারজাত করে। যেখানে প্রতি ১২.৫ কেজি এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডারের খুচরা মূল্য নির্ধারণ করা হয় ৬৯০ টাকা। সিলিন্ডারগুলো এ চার প্রতিষ্ঠান কর্তৃক নিবন্ধিত ডিলারদের মাধ্যমে বাজারে সরবরাহের জন্য প্রদান করা হয়। যারা সরকারি ৬৯০ টাকা মূল্যের এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার থেকে ক্রস ফিলিংয়ের মাধ্যমে বেসরকারি সিলিন্ডারে বোতলজাত করে প্রতি সিলিন্ডার ১৪০০-১৫০০ টাকা দরে অসাধুভাবে বিক্রি করে। অভিযানকালে একজন ডিলার ১০ থেকে ১৫ জন ডিলারের অথরাইজেশন নিয়ে একাই বরাদ্দকৃত গ্যাস উত্তোলন ও অধিক মূল্যে বিক্রয়ের তথ্য পায় দুদক টিম।

            অসাধুভাবে সরকারি গ্যাস অধিক মূল্যে বিক্রয় করে অর্থ আত্মসাৎ করার প্রাথমিক তথ্য-প্রমাণ প্রাপ্তির পরিপ্রেক্ষিতে টিম অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে কমিশনের অনুমোদনক্রমে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে বিষয়টি জানা গেছে। অভিযোগে বলা হয়, মাত্র ৬৯০ টাকার সরকারি গ্যাস কেন সাধারণ মানুষ পাচ্ছে না। গত ৪১ বছর ধরে বিপিসি বছরে গড়ে ১২ লাখ গ্যাস সিলিন্ডার সরবরাহ করছে। সেটা পাচ্ছে না সাধারণ মানুষ। অথচ ১৩০০ থেকে ১৩৫০ টাকায় বিক্রি হয় সে গ্যাস। প্রতি বছর লুটপাট হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ কোটি টাকা। ডিলার থেকে শুরু করে সরকারি কর্মকর্তা পর্যন্ত সবার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে।

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *