শিক্ষা ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আমার স্বপ্নের বিশ্ববিদ্যালয়। আমি এখানে পড়েছি কিন্তু মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করতে পারিনি। পৃথিবীর অনেক বিশ্ববিদ্যালয় আমাকে ডিগ্রি দিয়েছে কিন্তু তাতে আমার মন ভরেনি। নিজের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স ডিগ্রি নিতে পারলে মনটা ভরত। রোববার (২৯ অক্টোবর) দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে আয়োজিত বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষ সমাবর্তন অনুষ্ঠানের বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

            প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তো আমার নিজের বিশ্ববিদ্যালয়। আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য গর্ববোধ করি। আমি চাই বিশ্ববিদ্যালয় আরও উন্নত ও সমৃদ্ধ হোক। সকলের কাছে আহ্বান জানাই সবাই যেন গবেষণায় মনোনিবেশ করেন। আমি চাই এখানে গবেষণা বৃদ্ধি পাক। গবেষণায় উন্নতি সাধিত হলে দেশ আরও সামনে এগিয়ে যেতে পারবে। একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে বিশ্বের কাছে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারবে। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর নামে ১৯৪৮ সাল থেকে প্রতিদিন পাকিস্তানি সরকারের গোয়েন্দারা রিপোর্ট লিখত। আমি ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় আসার পরে সেগুলো সংগ্রহ করতে থাকি এবং বর্তমানে ১৩ খণ্ড প্রকাশিত যাচ্ছে। বাংলাদেশের অনেক ইতিহাস পরিবর্তন করে ফেলা হয়েছে। এ গোয়েন্দা রিপোর্ট এক একটি ইতিহাসের অংশ। আমরা মনে করি এ গোয়েন্দা রিপোর্ট প্রকাশিত হলে অনেক বিকৃত ইতিহাসকে মুছে দিয়ে সত্য প্রকাশিত হবে।

            সরকারপ্রধান বলেন, আজকে আমরা দেশের অর্থনৈতিক উন্নতি করেছি, দেশের দারিদ্র্য দূর করেছি যদিও কোভিড আমাদের কিছু সময়ের জন্য থামিয়ে দিয়েছিলো। আমি চাই আমাদের ছাত্র-ছাত্রী ও শিক্ষক সবাই আমাদের এই অর্জনগুলো যেন ধরে রাখে। এসব নিয়েই আমাদের সামনে এগিয়ে যেতে হবে। জাতির পিতা এই বাংলাদেশের জন্য যে মহান আত্মত্যাগ করে গেছেন, সেটি আমাদের ভুললে চলবে না। বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে বুকে ধারণ করে আমরা এগিয়ে যেতে থাকলে আমাদের কেউ রুখতে পারবে না।

            সভাপতির বক্তব্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান বলেন, আজকের সমাবর্তন সাধারণ কোন সমাবর্তন নয়। এখানে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে ডক্টর অব লজ ডিগ্রি প্রদান করা হয়েছে। দেশের প্রায় সকল গুরুত্বপূর্ণ খাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম উল্লেখযোগ্য। আর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্যের সাথে বঙ্গবন্ধুর নাম জড়িয়ে আছে। আমরা এ দিনে বঙ্গবন্ধুকে ‘ডক্টর অব লজ’ ডিগ্রি দিতে পেরে সম্মানিত বোধ করছি।

খবরটি 369 বার পঠিত হয়েছে


আপনার মন্তব্য প্রদান করুন

Follow us on Facebookschliessen
oeffnen