সূত্র:                                        তারিখ: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২২

 

প্রেস বিজ্ঞপ্তি

 

প্রাণ-প্রকৃতি ও পরিবেশ রক্ষার্থে লামা রাবার বাগানের সকল ইজারা বাতিল করতে হবে- অধ্যাপক তানজিম উদ্দিন খান

 

ঢাকায় লামা সরই ভূমি রক্ষা সংগ্রাম কমিটির সংহতি সমাবেশ

 

রাবার বাগান স্বাভাবিকভাবে পরিবেশ বিরোধী। তাই প্রাণ-প্রকৃতি ও পরিবেশ রক্ষার্থে লামা রাবার বাগানের সকল ইজারা বাতিল করার দাবি তুলেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক তানজিম উদ্দিন খান। তিনি লামায় ভূমি রক্ষার আন্দোলনকারী জনগণের সংকটের পাশে দাঁড়িয়ে, তাদের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ আওয়াজ তোলার জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। গতকাল শুক্রবার (৯ সেপ্টেম্বর ২০২২) বিকাল ৪টায় রাজধানী ঢাকায় শাহবাগ জাতীয় জাদুঘরের সামনে লামা সরই ভূমি রক্ষা কমিটির আয়োজিত সংহতি সমাবেশে এই দাবি তোলেন।

            ‘প্রাণ, প্রকৃতি ও পরিবেশ বিনষ্টকারী সকল রাবার বাগানের ইজারা বাতিল কর’ এই দাবি সম্বলিত শ্লোগানে বান্দরবানের লামা উপজেলার সরই ইউনিয়নে ভূমি দস্যুদের কোম্পানি লামা রাবার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড কর্তৃক রেংয়েন পাড়ার পানির উৎস ঝিরিতে বিষ প্রয়োগের সাথে জড়িতদের গ্রেপ্তার ও ভূমি রক্ষা সংগ্রাম কমিটিসহ গ্রামবাসীদের নামে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে দায়েরকৃত সকল মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে এবং ত্রিপুরা ও ম্রোদের ৪০০ একর জুমভূমি জবরদখলের ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে উক্ত সংহতি সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

            লামা সরই ভূমি রক্ষা সংগ্রাম কমিটির আহ্বায়ক রংধজন ত্রিপুরার সভাপতিত্ব ও রূপসী চাকমার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে সংহতি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক তানজিম উদ্দিন খান, বিশিষ্ট চিকিৎসক ডক্টর হারুনুর রশিদ, ব্যরিস্টার সাদিয়া আরমান, লামা সরই ভূমি রক্ষা কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক সংলে ম্রো, গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক থুইক্যচিং মারমা, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ)-এর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য নাসির উদ্দিন প্রিন্স,  বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রী সভাপতি সাদেকুল ইসলাম সোহেল, গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিলের সভাপতি আরিফ মঈন উদ্দিন, বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের সভাপতি সুনয়ন চাকমা, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট (বাসদ) সাধারণ সম্পাদক শোভন রহমান, বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন সভাপতি সাধারণ সম্পাদক সৈকত আরিফ প্রমূখ। এসময় লামা সরই ভূমি রক্ষা সংগ্রাম কমিটি’র সদস্য সচিব লাংকম ম্রো, রিংরং ম্রো, সদস্য রুইপাও ম্রো, সদস্য ইংচং ম্রো, সদস্য মথি ত্রিপুরা উপস্থিত ছিলেন।

            অধ্যাপক তানজিম উদ্দিন খান বলেন, বাংলাদেশে সংকটের মূল কারণ হচ্ছে এই রাষ্ট্র। পার্বত্য চট্টগ্রামে যারা অধিবাসী পাহাড়িরা রয়েছেন তাদের কাছে এই রাষ্ট্র অনেক আগে হারিয়ে গেছে। এই হারিয়ে গেছে বলে সেখানে আমরা আর্মি ক্যাম্প দেখি, সেখানে জন মানুষের সাথে রাষ্ট্রের অনাস্থা সম্পর্ক দেখি এবং সেখানকার পাহাড়িরা নিজভূমে পরবাসী। আমাদের এই রাষ্ট্র এমন একটি জায়গায় পৌঁছেছে এটি এখন একটি বাজারি রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। সুষ্ঠু নির্বাচন না থাকায় সংসদ সদস্যরা অনেক অর্থের বিনিময়ে পার্টি ও দল থেকে মনোনয়ন কিনে নিয়ে সংসদ সদস্য হচ্ছেন। এরা সকলে রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে ব্যবসায়ী। তারা জনগণের পাশে এসে দাঁড়ায় না। এরাই এখন জনগণকে শাসন করছেন। তার একটি উদাহরণ হচ্ছে লামা রাবার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড। তারা পাহাড়িদের নিজ জায়গা থেকে উচ্ছেদ করার জন্য বিভিন্ন কার্যক্রম, অন্যায়-অনাচার শুরু  করেছে, সেই যে অনাচারটা তারা করেছে সেটা হচ্ছে পানিতে বিষ মিশে দেওয়া। তিনি বলেন, রাবার বাগান স্বাভাবিকভাবে পরিবেশ বিরোধী। সুতরাং প্রাণ-প্রকৃতির পরিবেশ রক্ষার্থে লামা রাবার বাগানের সকল ইজারা বাতিল করতে হবে। এ সময় তিনি লামায় ভূমি রক্ষার আন্দোলনকারী জনগণের সংকটের পাশে দাঁড়িয়ে, তাদরে পক্ষে ঐক্যবদ্ধ আওয়াজ তোলার জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানান।

            বাংলাদেশ একটি প্রাইভেট কোম্পানি রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, আসলে বাংলাদেশ রাষ্ট্র এখন প্রাইভেট কোম্পানির রাষ্ট্র হয়ে গেছে। যার ফলে এই রাষ্ট্র মানুষকে মানুষ মনে করে না। মানুষকে মনে করছে অন্য কোন পণ্য কিংবা জন্তু জানোয়ার। এরকম পরিস্থিতিতে এর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর ছাড়া দ্বিতীয় কোন উপায় নেই। এই রাষ্ট্র রাজনৈতিক দল ও জনগণের প্রকৃত আন্দোলনকে দমানোর জন্য এমন একটি ইস্যু তৈরি করে কাউকে কখনো মুসলিম, কাউকে কখনো হিন্দু, কখনো বাঙালি আর কাউকে চাকমা বানিয়ে বিভেদ তৈরি করতে সব সময় সচেষ্ট থাকে। এখন সামনে হাজির করেছে ছোট পোশাক, বড় পোশাক, এ নিয়ে বিতর্ক তুলছে। এটা করছে আমাদের অসহায় অবস্থাকে ভূলিয়ে দেওয়ার জন্য। এইসব করে ভূলিয়ে দিয়ে এই বাজারি রাষ্ট্র জনগণের জমি দখল করা থেকে শুরু করে গুম-হত্যাসহ যা করার দরকার সবই করে আসছে। এই রাষ্ট্রকে ফিরে পাবার আন্দোলন হচ্ছে ভূমি রক্ষা আন্দোলন। লামায় যারা বিতাড়িত হচ্ছে, হওয়ার উপক্রম হচ্ছেন তাদের যে আন্দোলন সেটা এই রাষ্ট্রকে ফিরে পাবার আন্দোলন। যে রাষ্ট্র হারিয়ে গেছে সে রাষ্ট্র, একটি বাজারি রাষ্ট্র, একটি প্রাইভেট লিমিটেড রাষ্ট্র পরিণত হয়েছে।

            বাজারি রাষ্ট্রের শাসন-শোষণ থেকে বের হতে হলে একতাবদ্ধ হওয়ার কোন বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করে অধ্যাপক তানজিম উদ্দিন খান বলেন, বাংলাদেশে ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠী বলে কাউকে কাউকে ‘ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী’ বলে চিহ্নিত করা হয়।  আর ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী বলে তারা যে সংখ্যার দিক দিয়ে শক্তিশালী না তা স্মরণ করে দেয়া হয়। আর যখন আমরা বাঙালিরা সংখ্যায় বৃহৎ গোষ্ঠী বলে দাবি করি তখন সেখানে একটি বৃহৎ শক্তি আস্ফালন থাকে। যে রাষ্ট্র জনগণকে এভাবে বিভক্ত করে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী নাম দেয় সে রাষ্ট্র একটি বাজারি রাষ্ট্র। এই রাষ্ট্র মানুষকে ধারণ করে না, এই রাষ্ট্র ব্যবসায়ীকে ধারণ করে অসভ্য মানুষকে ধারণ করে। এই রাষ্ট্র সভ্য সমাজের না, সভ্য মানুষের না। এই জন্যই ছড়াতে বিষ মিশাতে কুন্ঠাবোধ করে না এবং ছড়াতে বিষ মিশিয়েও যারা এই ধরণে অপরাধ করে তাদের কিছু হয় না। তারা আমাদের হুমকি দেয়, আমাদেরকে শাসন করে। আমাদের নিয়মকানুন, আইনকানুনসহ সব কিছু অপরাধীরাই নিশ্চিত করে, তৈরি করে। আমাদের সংবিধানে রাষ্ট্রের মালিকানা জনগণের উল্লেখ থাকলেও কিন্তু জনগণের হাতে কোনো মালিকানা বা ক্ষমতা নেই। এই জনগণের রাষ্ট্র ফিরে পেতে হলে এই ভূমি রক্ষা আন্দোলনের সাফল্য খুবই জরুরি। তিনি বলেন, এই বাজারি রাষ্ট্রে সকল অত্যাচারীর অংশ না, যারা বাজারি রাষ্ট্রের অংশ না তারা সবাই সামগ্রীকভাবে বিপদগ্রস্ত। এই বিপদগ্রস্ত অবস্থা থেকে বের হতে হলে জাতির পরিচয় ভূলে গিয়ে সবার একতাবদ্ধ হওয়ার কোন বিকল্প নেই।

            ব্যারিস্টার সাদিয়া আরমান লামা সরইয়ে জনগণের আন্দোলনের সাথে একাত্মতা জানিয়ে বলেন, পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে লুটেরা শাসক যেখানে সংখ্যালঘুদের ভূমির ওপরে আগ্রাসন চালানো হয়েছিল সে দেশে সরকার সেখানে আইন করে তাদের ভূমি রক্ষার ব্যবস্থা করেছে। পৃথিবী জুড়ে প্রতিটি দেশে সেখানকার অধিবাসী সংখ্যালঘু জাতিসত্তাদের ভূমি সংরক্ষনের আইন রয়েছে। বাংলাদেশে পার্বত্য চট্টগ্রামে বিশেষ আইন রয়েছে বৃটিশ আমল থেকে এই আইন চালু করা ছিল। সে আইনে বলা হয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রামে নির্দিষ্ট সীমানার ভূমিগুলোকে সহজে লিস্ট দেওয়া যাবে না। কিন্তু তার বিপরীতে আমরা দেখেছিলাম ১৯৯৮ সালে পার্বত্য চট্টগ্রামে ভূমি লিস্ট নেওয়া হয়েছে। যে লিস্ট নেওয়া হয়েছে সেটা কতটুকু সংবিধান সম্মত তা আমি প্রশ্ন রাখতে চাই।

            লামা রাবার ইন্ডাস্ট্রিজ অপরাধ চক্র তৈরি করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, রাবার ইন্ডাস্ট্রিজ একটি ক্রিমিনাল এক্টিভিটিস হয়ে গেছে, তাদেরকে যে সীমানা দেওয়া হয়েছে সে সীমান অতিক্রম করে অন্যদের ভূমি বেদখল নেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে। তারা ভূমিদস্যু হয়ে গেছে, তাদেরকে যে ভূমি দেয়া হয়নি সে ভূমিগুলো তারা জোরপূর্বক দখল করে নিচ্ছে। আমরা বুঝতে পেরেছি যে, রাবার ইন্ডাস্ট্রিজ যে অপরাধগুলো করছে তা জেলা প্রশাসকসহ শক্তিধর গোষ্ঠীর সাহায্যে নিয়ে সেগুলো করছে। রাবার ইন্ডাস্ট্রিজ যে কাজগুলো করছে জেলা প্রশাসক কিভাবে অনুমতি দিতে পারে এবং পুলিশ-প্রশাসন ও যারা আইন রক্ষা করার কথা বলছেন তারা কিভাবে আইন রক্ষা করছেন বলে তিনি প্রশ্ন রাখেন। তিনি লামা সরইয়ের ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্টে একটি রিট করার এবং মানবাধিকার কমিশনের বরাবরে একটি আবেদন করার জন্য পরমর্শ প্রদান করেন। তিনি আরো বলেন, লামা সরই ভূমি রক্ষা সংগ্রাম কমিটি যে দাবি নিয়ে আন্দোলন করছে তাদের সকল দাবি খুবই যুক্তিযুক্ত রয়েছে। যারা ভূমি বেদখল করছে তাদের কাছে ভূমি বিষয়ে কোন পবিত্রতা থাকে না। তাদের কাছে ভূমি হচ্ছে মুনাফা, একটি বেচা-কেনা পণ্য। তাদের মূল উদ্দেশ্য সেখানকার ভূমি থেকে ম্রো ও ত্রিপুরাদের উচ্ছেদ করে দেওয়া। কিন্তু যারা ভূমি হারাচ্ছে তাদের কাছে সে ভূমিগুলো পবিত্র, সে ভূমির সাথে তাদের জীবন, অনেক স্মৃতি জড়িয়ে আছে। জন্মভূমি, মাতৃভূমি এবং তাদের আদিপুরষের পবিত্র কবরস্থান সেখানে রয়েছে। সাদিয়া আরমান আরো বলেন, আমাদের দেশে মিথ্যা মামলা একটি ফ্যাশন ও কালচারের পরিণত হয়েছে। যাদেরকে আমি দুর্বল পেলাম তাদেরকে হয়রানি করার জন্য প্রশাসনের সাথে মিলে তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করবো। তিনি ভূমিদস্যু লামা রাবার ইন্ডাস্ট্রিজ ও প্রশাসনের যারা পাহাড়িদের ভূমি বেদখরে জন্য অপরাধ চক্রের সাথে জড়িত তাদেরকে আইনে আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও ভূমি রক্ষা সংগ্রাম কমিটিসহ গ্রামবাসীদের নামে দায়েরকৃত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং ভূমি রক্ষা সংগ্রাম কমিটির দাবিকে মেনে নিতে আহ্বান জানান। তিনি আন্দোলনকারীদের সাথে থাকার বলে দৃঢ় প্রত্যেয় ব্যক্ত করেন এবং দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার জন্য আহ্বান জানান।

            ডা. হারুনর রশীদ বলেন, বাংলাদেশে সংখ্যালঘু জাতিগোষ্ঠীর ওপর যে অন্যায়, অত্যাচার করা হচ্ছে এটা অনেকে এড়িয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু এইসব বিষয়গুলো এড়িয়ে গেলে এই সমস্যার সমাধান হবে না। আমাদের এখানে যে রাষ্ট্র চলছে সে রাষ্ট্রের সরকার জনগণের কল্যাণের জন্য কাজ করছে না। তারা জনগণকে দুর্ভোগে ফেলে হাজার হাজার কোটি টাকা লুট করছে। তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশ রাষ্ট্রের যে ফ্যাসিবাদী শাসন চলছে এটাকে পরিবর্তন করতে হলে এই দেশে সংখ্যালঘু জাতিসত্তাদের বাদ দেয়া চলবে না। তাদেরসহ দেশের সকল নিপীড়িত জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে লড়াই সংগ্রাম এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি। রাবার ইন্ডাস্ট্রিজ’র ভূমি বেদখলের ঘটনা কোন বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয় উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, লামা সরইয়ে পাহাড়িদের যে ভূমি বেদখল করা হচ্ছে এটি কোন বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, এটি রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের অংশ। পাহাড়িদের ভূমি বেদখল করে নিজ বাস্তভিটা থেকে উচ্ছেদ করার জন্য এসব করছে। এই নিপীড়নের অংশ হিসেবে মাইকেল চাকমা ও কল্পনা চাকমাদের মত রাজনৈতিক ব্যক্তিদের গুম ও অপহরণ করা হয়েছে। তারা কোথায় আছেন আমরা জানি না। কিন্তু একদিন তাদেরকে ফিরিয়ে দিতে হবে, রাষ্ট্র জনগণের কাছে এর জবাব দিতে হবে। তিনি, জুম্ম জনগণের যে ভুমি রক্ষার যৌক্তিক দাবি এটা বড় পরিসরে নেয়া দরকার বলে মন্তব্য করেন এবং নিজেদের অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে একাত্মতা প্রকাশ করে লড়াই সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান। তিনি অবিলম্বে রাবার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড কর্তৃক পাহাড়িদের ভূমি বেদখলের চেষ্টা বন্ধের আহ্বান জানান।

            সমাবেশে থুইক্যচিং মারমা বলেন, আমদের পাহাড়িদের আজ নিজ দেশে, নিজ ভূমিতে পরবাসী হয়ে জীবন যাপন করতে হচ্ছে। লামা সরইয়ে ভূমি বেদখলের ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই পর্যন্ত জেলা প্রশাসক থেকে দুইবার তদন্ত কমিটি গঠন করা হলেও কোন সুরহা হয়নি। জেলা পরিষদের গঠিত তদন্ত কমিটি রিপোর্টে রাবার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডে ভূমি লিস্ট বাতিলে সুপারিশ করা হলেও জেলা প্রশাসকের তদন্ত কমিটির রিপোর্ট উল্টো ভূমিদস্যুদের পক্ষাবলম্বন করেছে। সমস্যা সমাধানের জন্য কয়েক দফায় শুনানি সভা ডাকা হলেও তা সমাধান করতে পারেনি। ভূমি দস্যুদের পক্ষে প্রশাসন থাকার কারণে লামায় ভূমি সমস্যা সমাধান হয়নি। তিনি আরো বলেন লাংকম, জয় চন্দ্র ও রেংয়েন ম্রো পাড়ার ম্রো-ত্রিপুরাদের ৪০০ একর ভূমি বেদখলের করতে রাবার ইন্ডাস্ট্রিজ একের পর এক মামলা-হামলাসহ নানান ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে। সর্বশেষ ঘটনায় সেখানকার পাহাড়িদের ক্ষেত থেকে মিষ্টি কুমড়া লুট করে নিয়ে গিয়েছে এবং গত ৬ সেপ্টেম্বর রেঙয়েন পাড়া বাসিন্দাদের একমাত্র পানির উৎস ঝিরিতে বিষ ঢেলে গ্রামবাসীদের হত্যার চেষ্টা করেছে। আমরা এই ঘটনার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। তিনি অবিলম্বে লামা রাবার ইন্ডাস্ট্রিজ কর্তৃক পাহাড়িদের ৪০০ একর ভূমি বেদখলের পাঁয়তারা বন্ধ করতে সরকার ও প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান।

            সাবেক ছাত্র নেতা নাসির উদ্দিন প্রিন্স বলেন, সরকার পার্বত্য চট্টগ্রামে সেনাশাসন জারির মাধ্যমে পাহাড়িদের শক্তিকে বিভক্ত করে রেখে শাসন শোষণ পরিচালনা করছে। উন্নয়নের নামে-বেনামে শাসকগোষ্ঠী পাহাড়িদের ভূমি বেদখল করে মুনাফা লাভ করছে। তিনি লামা ভূমি রক্ষার আন্দোলনকে সমর্থন জানিয়ে বলেন বাঙালি, পাহাড়ি-আদিবাসী সকলে মিলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে জমি রক্ষার আন্দোলনকে এগিয়ে নিতে হবে।

            সমাবেশ থেকে বক্তারা, লামা রাবার ইন্ডাস্ট্রিজ কর্তৃক ভূমি বেদখল বন্ধ করে ম্রো ও ত্রিপুরাদের ভোগ দখলীয় ৪০০ একর জুমভূমি জবরদখলের ষড়যন্ত্র বন্ধ করা এবং কোম্পানি কর্তৃক বেদখলকৃত সকল জমি ফেরত দেয়া; কোম্পানির কর্মকান্ডের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ম্রো ও ত্রিপুরাদের পর্যাপ্ত পরিমাণ ক্ষতিপূরণ;  জুম ভূমি কেটে ও আগুনে পুড়িয়ে প্রাকৃতিক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য ধ্বংস করা, অশোক বৌদ্ধ বিহারে হামলা ভাংচুর ও বুদ্ধ মূর্তি লুট এবং ভূমি রক্ষা সংগ্রাম কমিটির আহবায়ক রংধজন ত্রিপুরার উপর হামলার সাথে জড়িত কামাল উদ্দিন, মোয়াজ্জেম হোসেন, জহির উদ্দিন গং দের গ্রেপ্তার ও শাস্তি নিশ্চিত করা; কোম্পানি কর্তৃক ভূমি রক্ষা কমিটির নেতৃবৃন্দসহ ১১ জনের নামে দায়েরকৃত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং বান্দরবানে রাবার ও অন্যান্য বাগান সৃজন কিংবা পর্যটন উন্নয়নের উদ্দেশ্যে লামা রাবার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডসহ বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামে দেয়া সকল জমির লিজ বাতিল ও ক্ষেত থেকে মিষ্টি কুমড়া নিয়ে যাওয়ার ফলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারদের যথাযথ ক্ষতিপূরণ, ঝিড়ি পানিতে বিষ প্রয়োগকারী ভূমি দস্যুদের গ্রেফতারপূর্বক বিচারে দাবিসহ অবিলম্বে প্রাণ, প্রকৃতি ও পরিবেশ বিনষ্টকারী সকল রাবার বাগানের ইজারা বাতিলের দাবি জানানো হয়েছে।

            সমাবেশে সংহতি জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে সাবেক অধ্যাপক মেঘনা গুহ ঠাকরতা, ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া, নিউএজ পত্রিকার সাংবাদিক সাইদিয়া গুলরুখ ও মাহতাব উদ্দিন। এছাড়াও উপস্থিত থেকে সংহতি জানিয়েছেন বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সহ-সভাপতি জহুর লাল রায়, সাবেক পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের নেতা উৎপল খীসা, প্রকোশলী কল্লোল মোস্তফা, হিল উইমেন্স ফেডারেশনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মন্টি চাকমা, বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনে সাবেক সভাপতি মোস্তফা কামাল, গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের সাধারণ সম্পাদক জিকো ত্রিপুরা, হিল উইমেন্স ফেডারেশনের সদস্য দয়াসোনা চাকমা, বাংলাদেশ ম্রো স্টুডেন্ট এসোসিয়েশনের ঢাকা শাখার প্রতিনিধি চঙে ম্রো প্রমূখ।

            সমাবেশ শেষে একটি মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি শাহবাগ হয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ঘুরে আবার একই স্থানে শেষ হয়।

বার্তা প্রেরক

লাংকম ম্রো

সদস্য সচিব

লামা সরই ভূমি রক্ষা সংগ্রাম কমিটি।

খবরটি 199 বার পঠিত হয়েছে


আপনার মন্তব্য প্রদান করুন

Follow us on Facebookschliessen
oeffnen