
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে নেপালের নতুন প্রধানমন্ত্রী শপথ নিচ্ছেন সুশীলা কার্কি। তিনি দেশটির সাবেক প্রধান বিচারপতি ছিলেন। শুক্রবার (১২ সেপ্টেম্বর) নেপালের প্রেসিডেন্ট দপ্তর থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে। স্থানীয় সময় রাত ৯ টায় তিনি শপথ নেবেন। জেন-জির বিক্ষোভকারীদের প্রতিনিধি, প্রেসিডেন্ট রামচন্দ্র পাউডেল এবং সেনাবাহিনীর প্রধান অশোক রাজ সিগদেলের মধ্যে আলোচনা হয়। এরপর সুশীলা কার্কিকে প্রধানমন্ত্রী বানানোর সিদ্ধান্তের ব্যাপারে সবাই একমত হয়।
একটি সূত্র জানিয়েছে, সুশীলা কার্কি নেপালের ইতিহাসে প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হবেন। তার নেতৃত্বে একটি অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হবে। তার সরকারের মন্ত্রিসভার আকার ছোট হবে এবং প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠক করবেন তিনি। এ বৈঠক থেকে কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক পার্লামেন্ট ভেঙে দেওয়ার প্রস্তাব দেবেন তিনি। কেপি শর্মার পদত্যাগের পর নতুন প্রধানমন্ত্রী কে হবেন এ নিয়ে আন্দোলনকারীদের মধ্যে দ্বিধাদ্বন্দ্ব দেখা দেয়। বেশিরভাগ মানুষ সুশীলা কার্কির নাম প্রস্তাব করলে একটি পক্ষ কুলমান গিসিং নামে এক প্রকৌশলীকে প্রধানমন্ত্রী বানানোর দাবি জানান। কুলমান গিসিং নেপালের বিদ্যুৎ সমস্যা দূর করতে অগ্রণী ভূমিকা রেখেছেন। সব শঙ্কা দূর করে এখন সুশীলা কার্কি প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন।
সুশীলা কার্কি ২০১৬ থেকে ২০১৭ পর্যন্ত নেপালের প্রধান বিচারপতি ছিলেন। তিনি দেশটির প্রথম নারী প্রধান মন্ত্রী হন। বিচারক থাকাকালীন তিনি দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছিলেন এ কারণে জেন-জির কাছে তার জনপ্রিয়তা রয়েছে। তিনি ভারতের বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছেন। একবার ভারতীয় এক সংবাদ মাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সুশীলা বলেছিলেন, ভারত নেপালকে অনেক সহায়তা করেছে।

গত ৮ সেপ্টেম্বর সোমবার সকাল ৯ টা থেকে বিক্ষোভকারীরা কাঠমান্ডুর মৈতিঘর এলাকায় জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। নেপালে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম প্ল্যাটফর্ম বন্ধের সিদ্ধান্ত ও সরকারের দুর্নীতির বিরুদ্ধে জেন জি প্রজন্মের নেতৃত্বে শুরু হওয়া আন্দোলন অনলাইন থেকে সড়কে পৌঁছেছে। জেন জি প্রজন্মের নেতৃত্বে শুরু হওয়া ২৪ ঘণ্টার আন্দোলনে প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি পদত্যাগের পর সিপিএন-ইউএমএল নেতৃত্বাধীন নেপালের ক্ষমতাসীন সরকারের পতন ঘটেছে। হামি নেপাল নামের একটি সংগঠন প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করে। এ বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে সরকারের কর্মকাণ্ড ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে বিক্ষোভের ডাক দেওয়া হয়। দেশজুড়ে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। দেশটিতে সরকারের দুর্নীতি ও নানা ধরনের অনিয়মের বিরুদ্ধে সম্প্রতি আন্দোলনকারীরা ‘নেপো কিড’ এবং ‘নেপো বেবিস’ নামের বিভিন্ন ধরনের হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে অনলাইনে পোস্ট করেন। সরকার বিরোধী এ সব হ্যাশট্যাগ অনলাইনে ব্যাপক ট্রেন্ডে পরিণত হয়। সরকারি দুর্নীতি এবং সাম্প্রতিক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে শুরু হয় সরকার পতনের আন্দোলন। এ আন্দোলনে প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি পদত্যাগের পর সিপিএন-ইউএমএল সরকারের পতন ঘটে। বর্তমানে নেপালের ক্ষমতাসীন দল নেপালের কমিনিস্ট পার্টি (ইউনিফাইড মার্কসবাদী-লেলিনবাদী) (সিপিএন-ইউএমএল) এবং নেপালি কংগ্রেস এর নেতৃত্বে একটি জোট সরকার রয়েছে। যার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সিপিএন-ইউএমএল এর কেপি শর্মা ওলি ১৫ জুলাই, ২০২৪ থেকে দায়িত্ব পালন করছেন।
সূত্র: এনডিটিভি

