যুক্তরাষ্ট্র বি-২ স্টিলথ বোমারু দিয়ে হামলা ইরানে: অপারেশন মিডনাইট হ্যামার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানের ফর্দো পরমানু কেন্দ্রে অত্যাধুনিক বি-২ স্টিলথ বোমারু ব্যবহার করে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। মাটির ২৬২ ফুট গভীরে থাকা পরমাণু কেন্দ্রটিতে হামলা চালাতে ৩০ হাজার পাউন্ডের বাঙ্কার বাস্টার বোমার প্রয়োজন ছিল। যেটি শুধুমাত্র বি-২ বোমারু ছোড়ার ক্ষমতা আছে। রোববার রাত ২টা ১০ মিনিটের দিকে ইরানের স্থানীয় সময় অনুযায়ী এ বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। আমেরিকার পূর্বাঞ্চলীয় স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ৪০ থেকে ৭টা ৫ মিনিটের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর এ হামলা চালায়। এ বিমান হামলা বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ বিমান হামলা বিষয়ে জানান। ইরানের তিনটি পরমাণু কেন্দ্রে হামলা চালিয়েছে তাদের বিমান বাহিনী। সফলভাবে হামলা চালিয়ে বিমানগুলো যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে যাচ্ছে তা জানিয়েছেন তিনি।

            অপারেশন মিডনাইট হ্যামার নামে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় চালানো যুক্তরাষ্ট্রের অভিযানের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেছেন দেশটির জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন। মার্কিন প্রতিরক্ষা সদরদপ্তর পেন্টাগনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেছেন, ইরানে মার্কিন হামলা ছিল পরিকল্পিত এবং সেনাবাহিনীর বিভিন্ন পক্ষ এ হামলা পরিকল্পনা নিখুঁতভাবে বাস্তবায়ন করেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় শুক্রবার রাত থেকে শনিবার সকালের মধ্যে এ অভিযান বাস্তবায়ন করা হয়। শত্রুপক্ষকে বিভ্রান্ত করার জন্য যুক্তরাষ্ট্র থেকে যাত্রা শুরু করা বি-২ স্টিলথ বোমারু বিমানের একটি বহর পশ্চিম দিকে গিয়েছিল। আর বাকি বিমান নীরবে পূর্ব দিকে এগিয়ে যায়। ১৮ ঘণ্টার ফ্লাইট চালিয়ে ইরানে ঢুকে পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে কোন ধরনের প্রতিবন্ধকতা ছাড়া হামলা চালায় এ সব বিমান। তিনি বলেন, যুদ্ধবিমান আঘাত হানার আগে একটি মার্কিন সাবমেরিন থেকে ইরানের ইসফাহান পারমাণবিক স্থাপনার ভূপৃষ্ঠে অবস্থিত অবকাঠামো লক্ষ্য করে দুই ডজনের বেশি টমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়।

            জেনারেল কেইন বলেন, বি-২ স্টিলথ বিমানগুলো ইরানের আকাশসীমায় প্রবেশের সময় মার্কিন বাহিনী বিভিন্ন ধরনের বিভ্রান্তিকর পদক্ষেপ নেয়। এর মধ্যে ছিল ভুয়া বিমানের ব্যবহার। নাতাঞ্জ ও ফোরদো পারমাণবিক স্থাপনায় পৌঁছানোর আগে মার্কিন বাহিনী উচ্চগতির প্রতিরোধ বিমান ও যুদ্ধবিমান ব্যবহার করে ইরানের আকাশে বি-২ বোমারু বিমানের নিরাপদ প্রবেশ নিশ্চিত করে। এরপর এ অভিযানে নেতৃত্বে থাকা প্রধান বি-২ বোমারু ব্মিান থেকে ইরানের ফোরদো পারমাণবিক স্থাপনায় দুটি বিশাল আকারের ‌‌‘বাঙ্কার-বাস্টার’ বোমা নিক্ষেপ করা হয়। এরপর অন্যান্য বি-২ বিমান তাদের নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে। ‌‌অভিযানে বাঙ্কার বিধ্বংসী মোট ১৬ টি জেবিইউ-৫৭ ম্যাসিভ অর্ডন্যান্স পেনিট্রেটর বোমা ব্যবহার করা হয়। মিশন শেষে যুক্তরাষ্ট্রের বিমানগুলো দেশে ফিরে আসে এবং আসা যাওয়ার পথে ইরানের পক্ষ থেকে কোনো গুলি বা প্রতিরোধের মুখে পড়েনি।

            হামলায় ধ্বংস ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি: মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেছেন, এ হামলা পরিকল্পিতভাবে ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা ‘দুর্বল’ এবং ‘ধ্বংস’ করার জন্য চালানো হয়েছিল। এ হামলায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ‘ধ্বংস’ হয়েছে। তবে সামরিক বা বেসামরিক লোক হতাহত হয়নি। বহু প্রেসিডেন্ট ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিতে চূড়ান্ত আঘাত হানার স্বপ্ন দেখেছেন। কিন্তু ট্রাম্প ছাড়া কেউ তা বাস্তবায়ন করতে পারেননি। যে কারণে এ অভিযানকে সাহসী ও দুর্দান্ত আখ্যা দেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, যখন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কথা বলেন, তখন বিশ্বের তা শোনা উচিত। যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া আর কোন দেশ এ ধরনের অভিযান চালাতে পারতো না।

            হামলার সিদ্ধান্ত কখন নেন ট্রাম্প: পেন্টাগনে সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী হেগসেথের কাছে সাংবাদিকরা জানতে চান, ডোনাল্ড ট্রাম্প ঠিক কবে বা কখন ইরানে হামলার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। হেগসেথ বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সম্পূর্ণভাবে শান্তিপূর্ণ সমাধানের পক্ষে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ছিলেন এবং তিনি আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের কথা বলেছিলেন। তিনি বলেন, যে কারণে তিনি ইরানকে সব ধরনের সুযোগ দিয়েছিলেন। কিন্তু জবাবে ইরান কেবলমাত্র ঠুনকো অজুহাত দিয়েছিল। ট্রাম্পের কোন নির্দিষ্ট মুহূর্ত ছিল না। কিন্তু এমন একটা সময় সামনে আসলো, যখন তিনি অনুভব করলেন হুমকি বন্ধে এখন ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

সূত্র: সূত্র: এক্সিওস, সিএনএন, আল জাজিরা।

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *