
স্টাফ রিপোর্টার, বান্দরবান: বান্দরবান জেলার ঐতিহ্যবাহী রাজার মাঠে ৩ দিন ব্যাপী সাংগ্রাইং উৎসব উপলক্ষে মৈত্রী পানি বর্ষণ আয়োজন করা হয়। এ উৎসব আয়োজন করে সাংগ্রাইং উৎসব উদযাপন কমিটি। শুক্রবার বিকালে জেলা শহরের রাজার মাঠে সাংগ্রাইং মৈত্রী পানি বর্ষণ উৎসবের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক উপদেষ্টা সুপ্রদীপ চাকমা।
এ সময় পার্বত্য উপদেষ্টা সুপ্রদীপ চাকমা বলেন, বান্দরবানে ১২ টি জনগোষ্ঠী একত্রিত হয়ে মিলেমিশে বসবাস করছে। আর ১২টি জাতিগোষ্ঠির এমন সংমিশ্রন ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য সবাইকে মুগ্ধ করে। বলা যায় কালারফুল। মারমা জনগোষ্ঠীর নব বর্ষ বরণ উপলক্ষে সাংগ্রাইং উৎসব বড় সামাজিক উৎসব। এ উৎসবে রয়েছে নিজের মনকে পবিত্র করার মৈত্রী পানি বর্ষণ আয়োজন। এ উৎসবে মৈত্রী পানি বর্ষণ করে সকলে আনন্দ করে। জেলার নাম দিয়েছে সম্প্রীতি বান্দরবান। এ বার বিদেশীরা তা জেনে গেল। তিনি আরও বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের পাহাড়িরা নৃ-গোষ্ঠীর আগে ক্ষুদ্র শব্দটি বাদ দিতে চাই। আমরা ক্ষুদ্র শব্দটি ব্যবহার করতে চাই না। সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা ক্ষুদ্র শব্দটির ব্যবহার করতে চান না। মারমা, চাকমা, ত্রিপুরা যে জাতি হই না কেন ক্ষুদ্র বা বৃহৎ কিছু না। পার্বত্য চট্টগ্রামের উন্নয়নের জন্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে যা করার দরকার তা করব। দেশের আর্থিক উন্নয়ন ও মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন চাই।

এ উৎসবে উপদেষ্টা সুপ্রদীপ চাকমার সাথে তার স্ত্রী ও কন্যা, ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) অ্যাম্বাসেডর মাইকেল মিলার, ইতালিয়ান অ্যাম্বাসেডর আন্তোনিও আলেসান্দ্রো, নেদারল্যান্ড দূতাবাসের প্রতিনিধি আন্দ্রে কার্স্টেন্স, পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক থানজামা লুসাই, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণায়ের অতিরিক্ত সচিব প্রদীপ কুমার মহোত্তম, যুগ্ম সচিব কংকন চাকমা, জেলা প্রশাসক শামীম আরা রিনি, পুলিশ সুপার মো. শহিদুল্লাহ কাওছার, উৎসব উদযাপন পরিষদের সভাপতি চনুমং মামা ও সরকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের উর্ধতন কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
গত ১৩ এপ্রিল থেকে বান্দরবানে শুরু হওয়া মারমা সম্প্রদায়ের সাংগ্রাই উৎসবের শেষ দিনে আয়োজন করা হয় মৈত্রী পানি বর্ষণ ও মনোরম সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। এ সময় পুরনো বছরের গ্লানি মুছে সুখ ও শান্তি প্রত্যাশা করা হয়। মারমা তরুণ তরুণীরা একে অপরের গায়ে পানি ছিটানোর পাশাপাশি পার্বত্য জেলা বান্দরবানের ১১ টি পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর ও বাঙালি শিল্পীরা লোকজ সংগীত, নৃত্য ও বিভিন্ন পরিবেশনার মাধ্যমে আনন্দ উদযান করে।

