সিরিয়ার বিদ্রোহীদের সরকার গঠন: অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ আল-বশির

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর বিদ্রোহীদের সরকার গঠন করা হয়। বাশার আল-আসাদকে ক্ষমতাচ্যুত করা বিদ্রোহীদের সমর্থনে সিরিয়ার অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন মোহাম্মদ আল-বশির। মঙ্গলবার সিরিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে দেশটির অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। অন্তর্বতীকালীন সরকারের কাছে ফাইল ও প্রতিষ্ঠান হস্তান্তর শিরোনামে এ বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনে বৈঠকে ইদলিব ও এর আশপাশের মুক্তিকালীন সরকারের একটি দল এবং ক্ষমতাচ্যুত সরকারে কাজ করা সদস্যরা অংশ নিয়েছিল।

            রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া সংক্ষিপ্ত ভাষণে মোহাম্মাদ আল-বশির বলেছেন, আজ আমরা মন্ত্রিসভার বৈঠক করেছি। তিনি ১ মার্চ পর্যন্ত অন্তর্বর্তী কর্তৃপক্ষের নেতৃত্ব দেবেন। টেলিভিশনে ভাষণ দেওয়ার সময় সিরিয়ার অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রীর পেছনে দুটি পতাকা দেখা যায়। এক দশকের বেশি সময়ের গৃহযুদ্ধকালীন আসাদের বিরোধীদের ব্যবহার করা সবুজ, কালো এবং সাদা রঙের একটি পতাকা এবং কালো কালিতে কালিমা লেখা আরেকটি সাদা পতাকা ছিল। সাধারণত সুন্নি ইসলামপন্থী যোদ্ধারা সিরিয়ায় কালো কালিতে কালিমা লেখা সাদা পতাকা উড়ান।

            ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলেছে, সিরিয়ার তুলনামূলক কম পরিচিত এ বিদ্রোহী নেতার অতীতে দেশটির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের ছোট এক অঞ্চলের প্রশাসন পরিচালনার অভিজ্ঞতা রয়েছে। এ অঞ্চলটি বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণে ছিল। দামেস্কের রাস্তাঘাট পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করছেন কর্মীরা। কিছু রাস্তায় যানবাহনের চলাচল বেড়েছে। দোকান পাট পুনরায় খুলতে শুরু করেছে। নির্মাণ শ্রমিকরা শহরের কেন্দ্রস্থলের গোলচত্বর মেরামত করছেন। সিরিয়ার রাস্তায় সশস্ত্র ব্যক্তির সংখ্যা উল্লেখযোগ্য পরিমাণে হ্রাস পেয়েছে। কমান্ড যোদ্ধা ও পুলিশকে শহরগুলো থেকে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। এর পরিবর্তে সেখানে প্রধান বিদ্রোহী গোষ্ঠী হায়াত তাহরির আল-শামের (এইচটিএস) সঙ্গে যুক্ত অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বাহিনীকে সেখানে মোতায়েন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

            অন্যদিকে আসাদ সরকারের পতনের পর দেশজুড়ে স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনতে বিদ্রোহী যোদ্ধাদের প্রবল প্রচেষ্টার মাঝে নতুন করে শঙ্কা তৈরি করেছে ইসরায়েল। সিরিয়ার সামরিক বাহিনীর দুই শতাধিক স্থাপনা ও ঘাঁটি লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। আসাদের পতনের পর সিরিয়ার সেনাবাহিনীর অস্ত্র যাতে অন্য কোনও শত্রুর হাতে না যায়, সে লক্ষ্যে ঘাঁটিতে হামলা চালানো হয়েছে এ দাবি করেছে ইসরায়েল। এমনকি ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর সামরিক ট্যাংক দামেস্কের কাছাকাছি পৌঁছে গেছে  সিরিয়ার একাধিক সূত্র দাবি করেছে। সিরিয়ায় ইসরায়েলি বাহিনীর অনুপ্রবেশ এবং হামলার নিন্দা জানিয়েছে মিসর, কাতার ও সৌদি আরব।

            বিদ্রোহীদের আন্দোলনে টিকতে না পেরে পরিবারসহ রাশিয়া পালিয়ে গেছেন সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ। এর মধ্য দিয়ে সিরিয়ায় আল-আসাদ পরিবারের পাঁচ দশকের বেশি সময়ের শাসনের অবসান ঘটেছে। আসাদের পতনের পর মানুষের জীবনযাত্রা স্বাভাবিক করতে সিরিয়ার রাজধানীতে প্রথমবারের মতো সরকারি-বেসরকারি সব ব্যাংক পুনরায় খুলে দেওয়া হয়েছে।

সূত্র: রয়টার্স, এএফপি।

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *