আন্তর্জাতিক ডেস্ক: নোবেল ফাউন্ডেশন ২০২২ সালের সুইডেনের স্টকহোমে রয়্যাল সুইডিস অ্যাকাডেমিতে নোবেল বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করে। বিশ্বে সবচেয়ে সম্মানজনক নোবেল পুরস্কার বিজয়ীদের নাম ঘোষণা শুরু করেছে নোবেল ফাউন্ডেশন। সোমবার (৩ অক্টোবর) সুইডেনের ক্যারোলিনস্কা ইনস্টিটিউট চিকিৎসা নোবেল বিজয়ীর নাম ঘোষণার মাধ্যমে এবারের নোবেল পুরস্কার মৌসুমের সূচনা হয়েছে। মঙ্গলবার (৪ অক্টোবর) সুইডেনের স্টকহোমে রয়্যাল সুইডিস অ্যাকাডেমি পদার্থ নোবেল বিজয়ীদের তিন বিজ্ঞানীর নাম ঘোষণা করে। তারপর বুধবার (৫ অক্টোবর) সুইডেনের রয়্যাল সুইডিশ অ্যাকাডেমি অব সায়েন্সেস রসায়ন নোবেল জয়ীদের তিন বিজ্ঞানীর নাম ঘোষণা করা হয়। বৃহস্পতিবার (৬ অক্টোবর) স্টকহোমে রয়্যাল সুইডিশ অ্যাকাডেমি অব সায়েন্সেস সাহিত্যে নোবেল জয়ীর নাম ঘোষণা করা হয়। শুক্রবার (৭ অক্টোবর) নরওয়ের রাজধানী অসলোতে নোবেল ইনস্টিটিউট শান্তি নোবেল জয়ী ব্যক্তি ও সংস্থার নাম ঘোষণা করে। আর সোমবার (১০ অক্টোবর) সুইডেনের রাজধানী স্টকহোমে রয়্যাল সুইডিশ অ্যাকাডেমি অব সায়েন্সেস অর্থনীতি নোবেল বিজয়ীদের তিন ব্যক্তির নাম ঘোষণার মাধ্যমে শেষ হয় এবারের নোবেল পুরস্কার ঘোষণার আনুষ্ঠানিকতা।

            করোনা মহামারির কারণে ২০২০ ও ২০২১ সালে সুইডেনের রাজধানী স্টকহোমে ছোট আকারের অনুষ্ঠান আয়োজনের মাধ্যমে নোবেল জয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়। সে অনুষ্ঠানে আয়োজক কমিটির বাইরে অন্য কোনো অতিথি উপস্থিত ছিলেন না। সেখানে ১০ ডিসেম্বর নোবেল পুরস্কারের মূল্য ১ কোটি সুইডিশ ক্রোনারের (প্রায় ৯ লাখ ডলার) পাশাপাশি বিজয়ীদের হাতে একটি সনদ ও স্বর্ণপদক তুলে দেওয়া হবে। এ বছর নোবেল ফাউন্ডেশন ২০২২ সালের বিজয়ীদের সঙ্গে গত দুই বছরের বিজয়ীদের ডিসেম্বরের নোবেল সপ্তাহে আমন্ত্রণ জানাবে।

            নোবেল পুরস্কার ২০২২: নীচে বিভিন্ন বিভাগ অনুযায়ী নোবেল পুরস্কার বিজয়ীদের নাম, তারা কোন দেশের ও কি কারণের জন্য বা কি অবদানের জন্য নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।

            ০১| চিকিৎসা বিজ্ঞান: বিলুপ্ত হোমিন ও মানব বিবর্তনের যুগান্তকরী মানব প্রজাতির জিনোম সম্পর্কিত গবেষণায় আবিষ্কারের অবদানে জন্য চিকিৎসা বিজ্ঞানে একক ভাবে নোবেল বিজয়ী হলেন সুইডেনের বাসিন্দা সান্তে প্যাবো।

            ০২| পদার্থ বিজ্ঞান: কোয়ান্টাম ইনফরমেশনের দুনিয়ায় অভাবনীয় সাফল্যের জন্য পদার্থ বিজ্ঞানে যুগ্ম ভাবে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী হলেন আমেরিকার বাসিন্দা জন ক্লোজার, ফ্রান্সের বাসিন্দা অ্যালেন অ্যাসপেক্ট ও অস্ট্রেলিয়ার বাসিন্দা অ্যাটন জেলিঙ্গার।

            ০৩| রসায়ন বিজ্ঞান: ক্লিক কেমিস্ট্রি ও বায়োর্থোগোনাল কেমিস্ট্রির উন্নয়নের জন্য রসায়ন বিজ্ঞানে যুগ্ম ভাবে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী হলেন আমেরিকার বাসিন্দা ক্যারোলিন আর. বার্তোজী, কার্ল ব্যারি সার্পলেশ ও ডেনমার্কের বাসিন্দা মর্টেন মেন্ডল। আমেরিকান বিজ্ঞানী কার্ল ব্যারি সার্পলেশ পঞ্চম ব্যক্তি দুবার নোবেল পুরস্কার পেলেন। এর আগে এ কৃতিত্ব জন বারডিন, মারি স্কলোডভস্কা কুরি, লিনাস পলিং ও ফ্রেডেরিক স্যাঙ্গার অর্জন করেছিলেন। সার্পলেশ ২০০১ সালে প্রথমবার রসায়ন বিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন।

            ০৪| সাহিত্য: সাহস ও নিখুঁত মাধ্যমে ব্যক্তিগত স্মৃতির শিকড়কে একত্রিত করে যেভাবে তিনি ক্ষুরধার কলমে অনাবৃত করেছেন সে পেক্ষাপট থেকে সাহিত্য বিভাগে একক ভাবে নোবেল জয়ী হলেন ফরাসী বাসিন্দা তথা লেখিকা অ্যানি এনৌ। অ্যানি এনৌর সাধারণত সহজ সরল ভাষায় পরিস্কার শব্দচয়ন, আপোষহীন লেখনীর মাধ্যমে এবং স্বাধীনতায় বিশ্বাসী মনোভাব যা পাঠককুলকে সর্বদা আগ্রহী করে তুলতে বাধ্য করে।

            ০৫| শান্তি: নিজ দেশে সুশীল সমাজের প্রতিনিধিত্ব করে ও বহু বছর ধরে ক্ষমতার অপব্যবহার সমালোচনা করার অধিকার এবং নাগরিকদের মৌলিক অধিকার রক্ষার পাশাপাশি যুদ্ধাপরাধ মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ শান্তিতে যুগ্মভাবে নোবেল পুরস্কার পেয়েছে বেলারুশের মানবাধিকার আইনজীবি আলেস বিলিয়াতস্কি, রাশিয়ান মেমোরিয়াল মানবাধিকার সংস্থা (The Russian Human Rights Organisation Memorial) ও ইউক্রেনের মানবাধিকার সংস্থা সেন্ট্রাল ফর সিভিল লিব্যার্টিজ (Ukrainian Human Rights Organisation Center for Civil Liberties).

            ০৬| অর্থনীতি: ব্যাংকিং ও অর্থনীতি গবেষণায় আর্থিক সংকটের উপর গবেষণার জন্য অর্থনীতিতে নোবেল পেয়েছেন তিন অর্থনীতিবিদ বেন এস. বারন্যাঙ্ক, ডগ্লাস ডব্লিউ. ডায়মন্ড এবং ফিলিপ এইচ. ডিবভিগ। তিন জন আমেরিকা তথা মার্কিন নাগরিক।

            নোবেল ফাউন্ডেশন এ ৬ টি বিষয়ের উপর অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ প্রদান করা হয় নোবেল পুরস্কার। ১৯০১ সালে অর্থনীতি ব্যতীত অন্য সকল ক্ষেত্রে নোবেল পুরস্কার বিতরণ করা শুরু হয়। ১৯৬৮ সালে সুইডেনের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ভেরিজ রিক্সব্যাংক অর্থনীতিতে পুরস্কার প্রবর্তন করে। পরের বছর থেকে রয়্যাল সুইডিশ একাডেমি অব সায়েন্সেস অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার দেওয়া শুরু করে। ১৯৬৯ সাল থেকে অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার বিতরণ করা হয়। নোবেল শান্তি পুরস্কার ব্যতীত সমগ্র ক্ষেত্রগুলিতে সুইডেন থেকে পুরস্কার বিতরণ করা হলে একমাত্র নরওয়ে দেশটি থেকে বিশ্ব শান্তির নোবেল পুরস্কার প্রদান করা হয়। নোবেল পুরস্কার বাবদ একটি গোল্ড ম্যাডেল, একটি শংসাপত্র ও ১০ মিলিয়ন সেক বা ১১ লক্ষ ৪৫ হাজার মার্কিন ডলার বা ভারতীয় ৯ কোটি টাকা দেওয়া হয়।

            বিশ্ব দরবারে সবচেয়ে সম্মানজনক পদক হিসাবে বিবেচিত নোবেল পুরস্কার। সমগ্র বিশ্বের মানব কল্যাণমূলক কর্মকান্ড, গবেষণা ও উদ্ভাবনী বিষয় কেন্দ্রিক কর্মকান্ডের সফলতা স্বরুপ ও অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ বিভিন্ন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে সম্মানীত করা হয়। সুইডিশ বিজ্ঞানী আলফ্রেড নোবেল আবিষ্কার করেছিলেন ডিনামাইট নামের ব্যাপক বিধ্বংসী বিস্ফোরক। তাকে বিপুল পরিমাণ অর্থ সম্পত্তির মালিক করে তোলে। সুইডেনের বিজ্ঞানী আলফ্রেড নোবেলের ১৮৯৫ সালে করে যাওয়া একটি উইল অনুযায়ী নোবেল পুরস্কার প্রচলন করা হয়। ১৯০১ সালে প্রথম নোবেল পুরস্কার দেওয়া শুরু হয়। এ ৬ টি বিষয় সাহিত্য, অর্থনীতি, চিকিৎসা শাস্ত্র, পদার্থ বিজ্ঞান, রসায়ন বিজ্ঞান, শান্তি।

            নোবেল ফাউন্ডেশনের ওয়েবসাইটে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পদার্থ বিজ্ঞানে ১৯০১ সাল থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত মোট ১১৫ টি নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। এরমধ্যে এককভাবে এ পুরস্কার পেয়েছেন মোট ৪৭ জন। নোবেলের ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সী পদার্থ বিজ্ঞানে পুরস্কার পেয়েছিলেন অস্ট্রেলীয় ও ব্রিটিশ পদার্থবিদ লরেন্স ব্র্যাগ। মাত্র ২৫ বছর বয়সে ১৯১৫ সালে পদার্থ বিজ্ঞানে তার বাবার সঙ্গে নোবেল পেয়েছিলেন তিনি। এছাড়া পদার্থ বিদ্যায় এখন পর্যন্ত মোট ৪ জন নারীকে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। ম্যারি কুরি ১৯০৩ সালে, মারিয়া গোয়েপার্ট মেয়ার ১৯৬৩, ডনা স্ট্রিকল্যান্ড ২০১৮ ও আন্দ্রিয়া ঘেজ পেয়েছিলেন ২০২০ সালে। নোবেলের ইতিহাসে পদার্থে মাত্র এক জন দুবার পুরস্কার পেয়েছিলেন। তিনি হলেন বিজ্ঞানী জন বার্ডিন। তবে সবচেয়ে বেশি অর্থাৎ ৯৬ বছর বয়সে পদার্থের নোবেল জিতেছিলেন আর্থার আশকিন।

খবরটি 190 বার পঠিত হয়েছে


আপনার মন্তব্য প্রদান করুন

Follow us on Facebookschliessen
oeffnen