জবভ:                             উধঃব:  ১২ আগস্ট ২০২২

 

 

প্রেস বিজ্ঞপ্তি

 

পার্বত্য চট্টগ্রামসহ সারাদেশে মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রতিবাদে ঢাকায় চার সংগঠনের মানববন্ধন

জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারকে পার্বত্য চট্টগ্রামে প্রবেশ করতে দেওয়ার আহ্বান

 

ÒSTOP HUMAN  RIGHTS  VIOLATION  IN  CHT, GIVE U. N. HR TEAM ACCESS TO CHTÓ এই শ্লোগানে পার্বত্য চট্টগ্রামসহ সারাদেশে খুন, গুম, অপহরণ, ভূমি বেদখল, নারী নির্যাতন, মামলা, হামলাসহ প্রতিনিয়ত মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রতিবাদে এবং বাংলাদেশ সফরকালে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারকে পার্বত্য চট্টগ্রামে প্রবেশের অনুমতি দেয়ার দাবিতে ঢাকায় মানববন্ধন করেছে পার্বত্য চট্টগ্রামে আন্দোলনরত চার গণসংগঠন বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ, হিল উইমেন্স ফেডারেশন, গণতান্ত্রিক যুব ফোরাম ও ইউনাইটেড ওয়ার্কার্স ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট।

আজ শুক্রবার, ১২ আগস্ট ২০২২ বিকাল ৩টায় ঢাকা বিশ^বিদ্যালয় সন্ত্রাস বিরোধী রাজু ভাস্কর্য পাদদেশে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধন থেকে বক্তারা অবিলম্বে পার্বত্য চট্টগ্রামে বিচার বহির্ভূত হত্যা, খুন, গুম, অপহরণসহ মানবাধিকার লঙ্ঘন বন্ধ করা, ইউপিডএফ ও সহযোগী সংগঠনের ওপর দমন-পীড়ন বন্ধ এবং গ্রেফতারকৃত সকল নেতা-কর্মীকে নিঃশর্ত মুক্তি, পার্বত্য চট্টগ্রামে সেনাশাসন অপরেশন উত্তরণ তুলে নেয়া এবং অস্থায়ী সকল সেনা ক্যাম্প প্রত্যাহারপূর্বক গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা কায়েম করা, বহিরাগত বাঙালি সেটলারদের পার্বত্য চট্টগ্রামের বাইরে সমতলে সম্মানজনক পুনর্বাসন, নারী নির্যাতন বন্ধ, সেনা মদদে সন্ত্রাসী কার্যক্রম বন্ধ করে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ, দেশের সংখ্যালঘু জনগণের ওপর হামলা, নিপীড়ন বন্ধের দাবি জানান এবং বাংলাদেশ সফরকালে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারকে পার্বত্য চট্টগ্রামে প্রবেশের ও অবাধে তথ্য সংগ্রহের অনুমতি দেয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

মানববন্ধনে গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক জিকো ত্রিপুরার সভাপতিত্বে ও পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অমল ত্রিপুরা সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের সভাপতি সুনয়ন চাকমা, দপ্তর সম্পাদক সুভাশীষ চাকমা, ইউনাইটেড ওয়ার্কার্স ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট-এর কেন্দ্রীয় সহ-সাধারণ সম্পাদক প্রমোদ জ্যোতি চাকমা, হিল উইমেন্স ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সদস্য রূপসী চাকমা প্রমুখ।

এছাড়াও মানববন্ধনে সংহতি জানিয়েছেন, বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রী সভাপতি সাদেকুল ইসলাম সোহেল, গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিলের সভাপতি আরিফ মঈন উদ্দিন, ছাত্র ইউনিয়নের সহ-সভাপতি অনিক রায়, বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনরে সাধারণ সম্পাদক সৌরভ রায়, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক সালমান সিদ্দিকী, বিপ্লবী ছাত্র-যুব আন্দোলনের কেন্দ্রীয় প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক সোহবত শোভন. সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টে সাধারণ সম্পাদক শোভন রহমান প্রমুখ।

মানববন্ধনে পার্বত্য চট্টগ্রামে মানবাধিকার পরিস্থিতি তুলে ধরে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ স্বাধীনতার পর থেকে দেশের দক্ষিণ পূর্বঞ্চল পার্বত্য চট্টগ্রামে যুগ যুগ ধরে সামরিক শাসন জারি রাখার মাধ্যমে সেখানে বসবাসরত পাহাড়ি জনগণের ওপর জাতিগত নিপীড়ন চালানো হচ্ছে। খুন, গুম, অন্যায় গ্রেফতার, মিথ্যা মামলা দিয়ে জেলে প্রেরণ, ভূমি বেদখল-উচ্ছেদ, নারী নির্যাতন যেন নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনায় পরিণত হয়েছে। ১৯৯৬ সালে ১২ জুন সেনাবাহিনীর তৎকালীন কজইছড়ি ক্যাম্প কমা-ার লে. ফেরদৌস গং কর্তৃক হিল উইমেন্স ফেডারেশনের সাংগঠনিক সম্পাদক অপহৃত কল্পনা চাকমা ও ২০১৯ সালে ঢাকা থেকে গুম হওয়া ইউপিডিএফ সংগঠক মাইকেল চাকমা’র খোঁজ এখনো আমরা পাইনি। বর্তমান সরকার ৭ জানুয়ারি ২০১৫ সালে স¦রাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কর্তৃক গণবিরোধী “১১ দফা” নির্দেশনা জারি করার মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রামে সেনাশাসনকে বৈধতা ও বিদেশীদের পার্বত্য চট্টগ্রামে প্রবেশের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। যার ফলে অতীতের ন্যায় বর্তমানে পাহাড়িদের ওপর নিপীড়ন, নির্যাতন ব্যাপকহারে বৃদ্ধি পেলেও পাহাড়ের মানবাধিকার পরিস্থিতি সরেজমিন দেখতে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা সহজে সেখানে যেতে পারছেন না। আর এই সুযোগে সরকার সেখানকার মানবিধাকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলো আড়াল করার মাধ্যমে নিষ্ঠুর দমন-পীড়ন চালিয়ে যাচ্ছে। তারা আরো বলেন, ১৯৯৭ সালে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি স্বাক্ষর হলেও পার্বত্য চট্টগ্রামের মানবাধিকার পরিস্থিতির কোন পরিবর্তন হয়নি, বরং দিন দিন নিপীড়নের মাত্রা আরো বৃদ্ধি পেয়েছে। চুক্তির পর থেকে আজ পর্যন্ত পাহাড়িদের ওপর ১৯টি বড় ধরনের সাম্প্রদায়িক হামলার ঘটনা ঘটেছে, যাতে শত শত ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে, বেশ কয়েকজন প্রাণ হারিয়েছে এবং অনেক পাহাড়ি উচ্ছেদের শিকার হয়েছেন। ইউপিডিএফের ৩৩৫ জন নেতা-কর্মী ও সমর্থককে হত্যা করা হয়েছে, যার মধ্যে রাষ্ট্রীয় বাহিনী কর্তৃক ২৭ জন, সরকারের সহযোগী জেএসএস কর্তৃক ২৬২ জন ও রাষ্ট্রীয় বাহিনীর মদদপুষ্ট ঠ্যাঙারে বাহিনী কর্তৃক ৪৬ জন খুনের শিকার হয়েছেন।

বর্তমান মানবাধিকার পরিস্থিতি তুলে ধরে বক্তারা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের বর্তমান মানবাধিকার পরিস্থিতি খুবই ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। শুধুমাত্র চলতি বছর জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত রাষ্ট্রীয় বাহিনীর দ্বারা পার্বত্য চট্টগ্রামে ইউপিডিএফ’র কর্মী সমর্থকসহ গ্রেফতারের শিকার হয়েছেন ৮৯ জন, শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ৩৪ জন, বিচার বহির্ভূত হত্যার শিকার হয়েছেন ইউপিডিএফ সংগঠক নবায়ন চাকমা মিলন সহ ২ জন এবং ২৯ জনের ঘরবাড়িতে হয়রানিমূলক তল্লাশির ঘটনা ঘটেছে। এছাড়াও জেএসএস সন্তু লারমা গ্রুপসহ সেনা মদদপুষ্ট সন্ত্রাসীদের দ্বারা ইউপিডিএফ কর্মী-সমর্থকসহ খুনের শিকার হয়েছেন ১৪ জন, অপহরণের শিকার হয়েছেন ২৭ জন। তারা আরো বলেন, এ বছর বহিরাগত বাঙালি সেটলারদের দ্বারা ৫টি সাম্প্রদায়িক হামলা ও ১১টি ভূমি বেদখলের ঘটনা ঘটেছে। ভূমি বেদখলের ঘটনাগুলোর মধ্যে অন্যতম দু’টি ঘটনা হলো বান্দরবানে লামা উপজেলার সরই ইউনিয়নে লামা রাবার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড নামক কোম্পানি কর্তৃক সেখানকার ¤্রাে ও ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীদের ভোগদখলীয় ৪০০ একর জুমের জমি বেদখল করতে আগুন লাগিয়ে দিয়ে জমি, জুমখেত ও বাগান পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। উক্ত জমি বেদখলের চেষ্টা এখনো অব্যাহত রয়েছে। গত ১০ আগস্ট কোম্পানির লেলিয়ে দেওয়া লোকজন সেখানকার রেংইয়েন ¤্রাে পাড়ায় নবনির্মিত অশোক বৌদ্ধ বিহারে হামলা-ভাংচুর চালিয়েছে। অপরদিকে গত ৫ জুলাই খাগড়াছড়ি জেলার মহালছড়ি উপজেলার মাইসছড়ি ইউনিয়নের জয়সেন পাড়ায় বহিরাগত বাঙালি সেটলাররা ভূমি বেদখলের উদ্দেশ্যে পাহাড়িদের ৩৭টি ঘরবাড়িতে অগ্নিসংযোগ, ভাংচুর ও লুটপাট চালায়। এতে পাহাড়িরা ভূমি হারানোর আতঙ্কে দিনযাপন করতে বাধ্য হচ্ছেন।

বক্তারা আরো বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে নারী নির্যাতনের ঘটনাও থেমে নেই। প্রতিনিয়ত এ ধরনের ঘটনা ঘটেই চলেছে। এ বছরের জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ১০ জন নারী যৌন সহিংসতার (খুন, ধর্ষণ, যৌন নিপীড়ন) শিকার হয়েছেন। মানববন্ধনে বক্তারা পার্বত্য চট্টগ্রামে নিপীড়নে যুক্ত রাষ্ট্রীয় বাহিনীর সদস্যদের বিচার না হওয়ার কারণে সমতলেও খুন, গুম, অপহরণসহ সংখ্যালঘুদের ওপর সাম্প্রদায়িক হামলার মতো ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটছে বলে মন্তব্য করেন। তারা দেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর অত্যাচার-নিপীড়নসহ সমতলের বিভিন্ন এলাকায় বসবাসরত ভিন্ন ভাষাভাষী জাতিগুলোর ওপরও নানা নিপীড়ন ও ভূমি থেকে উচ্ছেদ করার পাঁয়তারা চলছে বলে অভিযোগ করেন। মানববন্ধন থেকে বক্তারা সরকারের পার্বত্য চট্টগ্রামে জাতিগত নিপীড়ন ও অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে দেশের সকল প্রগতিশীল ও মানবাধিকার সংগঠন, বুদ্ধিজীবী, সুশীল সমাজ ও ব্যক্তিগণের প্রতি আহ্বান জানান। একই সাথে তারা পাহাড় ও সমতলের নিপীড়িত জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে একযোগে আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন।

 

বার্তা প্রেরক

 

(শুভাশীষ চাকমা)

দপ্তর সম্পাদক

পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ

কেন্দ্রীয় কমিটি।

খবরটি 236 বার পঠিত হয়েছে


আপনার মন্তব্য প্রদান করুন

Follow us on Facebookschliessen
oeffnen