অর্থনীতি ডেস্ক: নারী উদ্যোক্তারা জয়িতা, অঙ্গনা, চারুলতা ও সোনারতরী ব্র্যান্ডে তাদের উত্পাদিত পণ্য বিক্রি করছেন। আরো ৮০টি বিক্রয় ও প্রদর্শনীকেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করা হবে। দেশের সব জেলায় এই কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করা হবে। ই-জয়িতা আনন্দমেলা ও লাল-সবুজ অনলাইন প্ল্যাটফরমেও নারী উদ্যোক্তারা তাদের পণ্য বিক্রি করছেন বলে জানান বক্তারা। বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ শিশু একাডেমির সম্মেলনকক্ষে মহিলা অধিদপ্তরের নিবন্ধিত স্বেচ্ছাসেবী মহিলা সমিতিগুলোর মধ্যে অনুদানের চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন। মহিলা অধিদপ্তর এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অনুদানের চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে আটটি বিভাগের ১০ জন জেলা প্রশাসক নারীর কর্মসংস্থান ও উন্নয়ন, বাল্যবিবাহ রোধ এবং নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে তাদের কার্যক্রম তুলে ধরেন। ২০২০-২০২১ অর্থবছরে তিনটি ক্যাটাগরিতে দেশের ৩ হাজার ৫১৭টি নিবন্ধিত স্বেচ্ছাসেবী মহিলা সমিতির মধ্যে ১১ কোটি ৮৩ লাখ ২৫ হাজার টাকা অনুদান বিতরণ করা হয়। মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শিশু একাডেমির সম্মেলনকক্ষে ঢাকা জেলার নিবন্ধিত স্বেচ্ছাসেবী মহিলা সমিতির নেত্রীবৃন্দের হাতে অনুদানের চেক তুলে দেন। জেলা প্রশাসকগণ নিজ নিজ জেলার অনুদানের চেক সমিতির সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করেন।

            অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা বলেন, শহরের আধুনিক সুবিধা গ্রামে পৌঁছে দিতে সরকার ‘আমার গ্রাম, আমার শহর’ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। মুজিববর্ষে নির্মাণ করা হচ্ছে ‘বঙ্গবন্ধু মডেল ভিলেজ’। ফলে গ্রামের মানুষের আয় বৃদ্ধি পাবে এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। গ্রামের মানুষের জীবনযাত্রার মানের উন্নয়ন হবে। এ সময় প্রতিমন্ত্রী ইন্দিরা স্বেচ্ছাসেবী মহিলা সমিতির নেতৃবৃন্দকে বঙ্গবন্ধুর সমবায় সমিতির ভাবনার আলোকে গ্রামীণ নারীদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে কাজ করার আহ্বান জানান।

            ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা বলেন, ২০ হাজার নিবন্ধিত স্বেচ্ছাসেবী মহিলা সমিতি নারীদের প্রশিক্ষণ, বাল্যবিবাহ-যৌতুক প্রতিরোধ এবং নারী ও শিশু নির্যাতন রোধে বিভিন্ন সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। স্বেচ্ছাসেবী মহিলা সমিতির এলাকায় একটা বাল্যবিবাহও যেন না হয়, সেই লক্ষ্যে কাজ করতে হবে। কোভিডে ক্ষতিগ্রস্ত নারীদের পাশে দাঁড়াতে হবে।

            বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সায়েদুল ইসলাম বলেন, অর্থনীতিতে নারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধি পাওয়ায় বাংলাদেশ আজ উন্নয়নে বিশ্বের বিস্ময়। সামাজিক আন্দোলনের মাধ্যমে নারী ও শিশুর প্রতি সব ধরনের সহিংসতা প্রতিরোধ করতে হবে।

            মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক রাম চন্দ্র দাসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন জাতীয় মহিলা সংস্থার চেয়ারম্যান চেমন আরা তৈয়ব। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির সভাকক্ষের এ অনুষ্ঠানে ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে সব জেলা প্রশাসক ও অধিদপ্তরের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা সংযুক্ত ছিলেন।

খবরটি 82 বার পঠিত হয়েছে


আপনার মন্তব্য প্রদান করুন

Follow us on Facebookschliessen
oeffnen