জবভ:                                                 উধঃব: ২০ আগস্ট ২০২১

 

প্রেস বিজ্ঞপ্তি

 

খাগড়াছড়িতে পাক আগ্রাসনের ৭৪ বছরে তিন সংগঠনের আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

 

পার্বত্য চট্টগ্রামে পাকিস্তানি আগ্রাসনের ৭৪ বছর উপলক্ষে খাগড়াছড়িতে আলোচনা সভা করেছে বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ (পিসিপি), হিল উইমেন্স ফেডারেশন(এইচডব্লিউএফ) ও গণতান্ত্রিক যুব ফোরাম (ডিওয়াইএফ) খাগড়াছড়ি জেলা শাখা। আজ শুক্রবার, ২০ আগস্ট ২০২১ দুপুর ১২টায় খাগড়াছড়ি সদর উপজেলা এলাকায় এই আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

আলোচনা সভায় পিসিপি’র খাগড়াছড়ি জেলা শাখার সভাপতি সমর চাকমার সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন ইউনাইটেড পিপলস্ ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ)-এর খাগড়াছড়ি সদর উপজেলা সমন্বয়ক অংগ্য মারমা, পিসিপি’র কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক সুনীল ত্রিপুরা, গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের খাগড়াছড়ি জেলা শাখার সদস্য কৃপায়ন চাকমা ও হিল উইমেন্স ফেডারেশনের খাগড়াছড়ি জেলা সদস্য শিউলী চাকমা প্রমূখ।

আলোচনা সভায় বক্তরা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম এক সময় স্বাধীন ও স্ব-শাসিত অঞ্চল ছিল। পাহাড়িরা নিজেদের স্বাতন্ত্র্য বজায় রাখবার জন্য মোঘল-বৃটিশ অপশাসনের বিরুদ্ধে লড়াই করেছিল। মোঘলদের কাছ থেকে দু’টি কামান দখল করা ও ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে দীর্ঘ লড়াইয়ের বীরত্বপূর্ণ ইতিহাস রয়েছে। সে কারণে ব্রিটিশরা স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছিল যে, পার্বত্য চট্টগ্রামে জনগণ বৃটিশদের ‘প্রজা নয়, কর দাতা মাত্র’। কিন্তু ভারত উপহাদেশ থেকে বৃটিশদের শাসন অবসানের সময় অথাৎ ১৯৪৭ সালে ভারত-পাকিস্তান ভাগ হওয়ার সময়ে পার্বত্য চট্টগ্রামে পাহাড়ি জনগণ ভারত-বার্মায় অন্তর্ভূক্ত হওয়ার জন্য রাঙামাটিতে ভারত ও বান্দরবানে বার্মার পাতাকা উত্তোলন করলে ২০ আগস্ট পাকিস্তানি বেলুচ রেজিমেন্ট সৈন্যরা উক্ত উড্ডীর্ণ পাতাকা নামিয়ে দেয়ার মধ্য দিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামকে আগ্রাসন চালায় এবং পাহাড়িদের স্বাতন্ত্র্য সত্তা কেড়ে নিয়ে নিজেদের শাসন কায়েম করে।

তারা আরো বলেন, প্রত্যেক শাসক নিজেদের মতো করে জনগণের ওপর শাসন-শোষণ পরিচালনা করে থাকে। ৯ মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে লক্ষ লক্ষ মানুষের রক্তের বিনিময়ে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভ করলেও স্বাধীন দেশের প্রথম সংবিধানে (১৯৭২ সালে প্রণীত) পার্বত্য চট্টগ্রামে পাহাড়ি জাতিসহ দেশের সংখ্যালঘু জাতিসত্তাসমূহের অধিকার বিষয়ে কোন কিছু উল্লেখ করা হয়নি, উপরন্তু বাঙালি হিসেবে অভিহিত করা হয়েছিল। সে সময় পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ি প্রতিনিধিরা স্বাধীন দেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমানের নিকট পাহাড়ি জনগণের ন্যায্য দাবি-দাওয়া তুলে ধরতে গেলে প্রতিনিধিদের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ করা হয়। এমনকি শেখ মুজিবুর রহমান নিজেই পাহাড়ে লক্ষ লক্ষ বাঙালি ঢুকিয়ে দিয়ে পাহাড়িদের নিশ্চিহ্ন করার হুমকি দেন বলেও কথিত রয়েছে। তার পরবর্তী সময়ে পার্বত্য চট্টগ্রামে সেনানিবাস স্থাপন করে সেনা মোতায়েনের মাধ্যমে পাহাড়ি জনগণের উপর দমন-পীড়ন বৃদ্ধি করা হয়। এরপর জিয়াউর রহমান লক্ষ লক্ষ বাঙালি সেটলার অনুপ্রবেশ ঘটিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামে এক অরাজক পরিস্থিতির সৃষ্টি করেন। যা আজো উত্তরণ ঘটেনি।

বক্তারা পার্বত্য চট্টগ্রামের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে বলেন, বর্তমান ক্ষমতাসীন সরকার ২০১৫ সালে পার্বত্য চট্টগ্রামে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয় কর্তৃক দমনমূলক ‘১১ দফা’ নির্দেশনা জারি করে সেনা শাসনকে বৈধতা প্রদান করেছে। যার ফলে পাহাড়ি জনগণের ওপর দমন-পীড়ন, নির্যাতন, বিচার বহির্ভুত হত্যা, অস্ত্র উদ্ধারের নাটক সাঁজিয়ে মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে কারাগারে প্রেরণ, রাতে-বিরাতে ঘর বাড়িতে তল্লাশি-হয়রানির ঘটনা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। সিন্দুকছড়ি, সাজেক, চিম্বুক পাহাড়ে কথিত উন্নয়ন, পর্যটনের নামে পাহাড়িদের উচ্ছেদ করে ভূমি বেদখল, আন্দোলন দমন করার নামে রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের নির্বিচারে হত্যা-গুম-খুন-অপহরণ করা হচ্ছে।

বক্তারা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে এমন এক শ^াসরুদ্ধকর পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পেতে হলে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়া ছাড়া কোন বিকল্প নেই। শাসকগোষ্ঠীর সকল ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে পাহাড়ে ছাত্র-যুব-নারী সমাজসহ সমগ্র জনগণকে এক হয়ে লড়াই সংগ্রাম জোরদার করতে হবে।

সভা থেকে বক্তারা পার্বত্য চট্টগ্রামে জারিকৃত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের দমনমূলক ‘১১ দফা’ নির্দেশনা প্রত্যাহার, অন্যায় দমন-পীড়ন ও ভূমি বেদখল বন্ধের দাবি জানান। একই সাথে বক্তারা পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে সেনাশাসন তুলে নিয়ে প্রকৃত গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

বার্তা প্রেরক,

 

টনক চাকমা

দপ্তর সম্পাদক

পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ (পিসিপি)

খাগড়াছড়ি জেলা শাখা।

খবরটি 96 বার পঠিত হয়েছে


আপনার মন্তব্য প্রদান করুন

Follow us on Facebookschliessen
oeffnen