পর্যটন ডেস্ক: ছবির মতো সাজানো গোছানো ভারতের একটি প্রদেশ, যার নাম সিকিম। শ্যামলী পরিবহনে চড়ে বসলাম শিলিগুড়ি হয়ে সিকিম যাওয়া যায়। ভারতের ভিসা নিয়ে আগেই ট্রাভেল টেক্স জমা দিয়ে টোকেন নিতে হবে। ভ্রমণ করে বুড়িমারী স্থলবন্দর। ফ্রেশ হয়ে বুড়িমারীর প্রখ্যাত বুড়ির দোকানে নাস্তা করা যায়। তারপর ইমিগ্রেশন শেষ করে ভারতে চ্যাংড়াবান্ধা থেকে শিলিগুড়ির উদ্দেশ্যে যাত্রা। চ্যাংড়াবান্ধা থেকে ডলার এক্সচেঞ্জ করা যায়। এখানে শিলিগুড়ি বা গ্যাংটকের চেয়ে ভালো রেট পাওয়া যায়। দুপুরে শিলিগুড়ি পৌছানো যায়। তারপর দার্জিলিং টেক্সিস্ট্যান্ড থেকে একটি ছোট টাটা অল্টো গাড়ি ১৮০০ রুপিতে গ্যাংটক এমজি মার্গ পর্যন্ত ভাড়া করা যায়। শিলিগুড়ি থেকে যাত্রা শুরু করা গ্যাংটকের উদ্দেশ্যে। সিকিমের যেকোনো জায়গায় ভ্রমণের জন্য বিদেশী পর্যটকদের ইনার লাইন পারমিট (ওখচ) ও রেষ্ট্রিকটেড এরিয়া পারমিট (জঅচ) নিতে হবে ছবি ও পাসপোর্টের কপি প্রয়োজন হয়। সিকিম থেকে ফিরার সময় আবার রাংপোতে অবহিত করতে হয়। সিকিম প্রবেশের সময় ও ফিরার সময় পাসপোর্টে সিল দেয়া হয়। ইনার লাইন পারমিট দিয়ে আপনি শুধু সিকিম শহর ভ্রমন করতে পারবেন। সিকিমের অন্যান্য যায়গা ভ্রমন করতে হলে আপনাকে রেষ্ট্রিকটেড এরিয়া পারমিট নিতে হবে, যা শুধু সিকিমের অনুমোদিত ট্যুর এজেন্ট থেকে ট্যুর প্যাকেজ নেয়ার মাধ্যমে নিতে হয়। ট্যুর এজেন্ট আপনাদের রেষ্ট্রিকটেড এরিয়া পারমিট ব্যবস্থা করে আপনাদের প্যাকেজ অনুযায়ী ঘুরাবে। তবে অনেক সময় গাড়ির ড্রাইভার গাইড হিসেবে কাজ করে। শিলিগুরি থেকে গ্যাংটক যেতে প্রায় ৪ ঘন্টার মত সময় লাগে। আকাবাঁকা পাহাড়ি পথ ও তিস্তা নদীর সৌন্দর্য উপভোগ করতে করতে রাস্তায় একটি চা বিরতি দিয়ে কখন যে রাংপো চেকপোস্ট পৌঁছা যায়। প্রায় তিনঘন্টার মতো লাগে রাংপোতে পৌছাঁতে। রাংপোতে অভ্যর্থনা জানাবে বিশাল এক ঐতিহ্যবাহী ফটক। ওপরে সবুজ চৌচালা, দু’পাশে কলাম, কলামের গায়ে রংবেরঙের নকশাকাটা কারুকার্য, যা সিকিমের স্বকীয় বৈশিষ্ট্য। রাংপো চেকপোস্ট থেকে পাসপোর্ট ও পারমিট পেপারে এন্ট্রি সিল নিতে প্রায় ২০ মিনিটের মত লাগবে। এখান থেকে পারমিশনটি না নিলে গ্যাংটক গিয়ে কোন হোটেলে থাকতে পারবেন না এবং কোথাও ঘুরতে পারবেন না। পারমিশনের কাগজ ও পাসপোর্টে সিল নিয়ে আবার গ্যাংটকের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়া এর মধ্যে সন্ধ্যা হয়ে আঁধার ঘনিয়ে আসবে। আশপাশের সুউচ্চ পাহাড়ী বসতির বৈদ্যুতিক আলোগুলো জ্বলে উঠে মনে হচ্ছে আকাশে সারি সারি তারা জ্বলছে, সে এক অসাধারণ অনুভূতি প্রকাশ করে। প্রায় সোয়া এক ঘন্টার মধ্যে গ্যাংটক (এমজি মার্গ) পৌঁছা যাই। পরিবেশ বেশ ঠান্ডা চারদিক থেকে ঘিরে ধরে তাপমাত্রা ১৫ ডিগ্রী সেলসিয়াস। এবার হোটেল নেয়ার পালা, কয়েকটা হোটেল দেখা শেষে এমজি মার্গের রেডপান্ডা স্ট্যাচুর পাশে হোটেল বায়ুলে যার ভাড়া লাগবে ১৪০০ রুপি। হোটেলে উঠে ফ্রেশ হয়ে পরের দিনের নর্থ সিকিমের (লাচুং ও ইয়ামথান) ট্যুর প্যাকেজ বুকিং করা। হোটেলের একদম নিকটে এমজি মার্গ থেকে লালবাজারের দিকে নামার মুখে ঠাকুর এন্ড ব্রাদার্স ট্যুরস এন্ড ট্রাভেলস। সেখানে দেখা যায় অনেক বাংলাদেশী পরের দিন লাচুং ও ইয়ামথান ভ্রমণের জন্য প্যাকেজ খুঁজতে আসে। অনেক দেশি বিদেশী পর্যটকের পদচারণায় মুখরিত গ্যাংটক শহরের এই প্রাণকেন্দ্র এমজি (মহাত্মা গান্ধী) মার্গ, আইনশৃখংখলা পরিস্থিতি খুব চমৎকার, ক্রাইম নেই বললে চলে। কিছুক্ষণ এমজি মার্গে ঘুরে মহাত্মা গান্ধীর স্ট্যাচু ও রেডপান্ডা স্ট্যাচুর পাশে ছবি তুলে ফিরা যায় হোটেলে। পরদিন সকালে জানালা দিয়ে বাইরে পাহাড়ের গায়ে গড়ে উঠা গ্যাংটক শহরের দৃশ্য দেখতে ভাল লাগবে। মনের মধ্যে তখন অদ্ভূত এক অনুভূতি। ছোটবেলায় বই পড়ে যে ছবি এঁকেছি মনের মধ্যে সে ছবি বাস্তব হয়ে চোখের সামনে। অসাধারণ এমজি মার্গ দেখে কিছু ছবি তুলা যায়। সকালে হোটেল থেকে চেকআউট হয়ে বেরিয়ে পড়া ভাজারা টেক্সি স্ট্যান্ডের উদ্দেশ্যে। এখান থেকে লাচুং ইয়ামথান প্যাকেজের গাড়িগুলো ছেড়ে যায়। লোকাল টেক্সিতে জনপ্রতি ২০ রুপিতে পৌঁছা যায় সেখানে। দুদিনের জন্য ড্রাইভার কাম গাইড নর্থ সিকিমের (লাচুং) উদ্দেশ্যে রওনা হওয়া যায়। পথে কিছু যায়গা সাইটসিয়িং করা যায় রাংরাং ব্রীজ, নাগা ফলস, মেয়ং ফলস, সেভেন সিস্টারস ফলস, তুং ব্রীজ, অমিতাভ বচ্চন ফলস, চুংথাং ভিউ পয়েন্ট ও তিস্তা নদীতে চুংথাং হাইড্রো ইলেকট্রিক পাওয়ার প্লান্ট, পাহাড়ী টানেল সড়কসহ আরো কয়েকটা পয়েন্ট। পথে প্যাকেজে অন্তর্ভুক্ত দুপরের খাবার ভাত, ডাল, চিকেন কারি খাওয়া যায়। বিকেলে টি ব্র্যাকের জন্য বিরতি চুংথাং ভিউ পয়েন্ট। আকাঁবাকাঁ পাহাড়ী পথের অপরূপ দৃশ্য দেখতে দেখতে লাচুং পৌঁছাতে সন্ধ্যা হয়ে যায়। লাচুং পৌঁছে ড্রাইভার নিয়ে যায় প্যাকেজ অর্ন্তভুক্ত হোটেল হিডেন গেসারে। এরপর চা বিস্কিট খেয়ে প্রচন্ড ঠান্ডার মধ্যে বেরিয়ে রাতের ছোট্ট লাচুং শহরটা দেখা যায়। তাপমাত্রা তখন প্রায় মাইনাস দুই ডিগ্রী থাকে সাথে হীম বাতাস। স্বল্প সময়ে যা দেখা যায় তাতে ছোট্ট লাচুং শহরটা আমার কাছে অসাধারণ লেগবে। এখানে বাংলাদেশী ও কলকাতার পর্যটকদের দেখা যায়। প্রচন্ড ঠান্ডা তাপমাত্রা মাইনস ছয় ডিগ্রী নভেম্বর মাস হওয়ায় তখনো তুষারপাত শুরু হয়নি। লাচুংয়ের অপরূপ রূপ সৌন্দর্য দেখে মনটা জুড়িয়ে যাবে।

            হিমালয়ের পূর্ব সীমার অর্ন্তগত বিশাল বিশাল পাহাড় পর্বত চারিদিকে, সেগুলোর উপরের দিকে বরফ আচ্ছাদিত, সিকিম অপরূপ সৌন্দর্যের সে যে কি অপূর্ব দৃশ্য তা নিজে চোখে না দেখলে বলে বোঝানো যাবেনা। বরফে ঢাকা চূড়াগুলোতে মেঘের ছোঁয়াছুঁয়ি খেলা, যেন এক অপার্থিব দৃশ্যের অবতারণা। হিম বাতাসের শোঁ শোঁ শব্দ যেনো ছন্দময় সুর ছড়িয়ে দিচ্ছে চারিদিকে। গাড়ি দিয়ে য়ামথাং ভ্যালি ও জিরো পয়েন্টের উদ্দেশ্যে যাওয়া যায়। লাচুং থেকে পাহাড়ী সর্পিল পিচঢালা পথে ইয়ামথান ভ্যালীর দূরত্ব মাত্র ২৩ কিলোমিটার। এই উপত্যকা শীতকালে পুরোপুরি ঢেকে যায় শ্বেতশুভ্র বরফের চাদরে তখন তার অন্য এক রূপ দেখা যায়। সবুজ ঘাসের কার্পেটে মোড়া এই উপত্যকা, আর নীলরঙা তিস্তা নদীর বয়ে চলা মুগ্ধ করে ভ্রমণপিপাসুকে। যাত্রাপথের প্রতি বাঁকে সুউচ্চ পাহাড়গুলো একটা ইঙ্গিত দেয় সৃষ্টিকর্তা শ্রেষ্ঠ শিল্পী। প্রায় সাড়ে আটহাজার ফুট উঁচু শহরের উপর তিন-চার হাজার ফুট উচ্চতার একেকটি পর্বত দাঁড়িয়ে আছে নিরহংকারী হয়ে। কোনোটির চূড়ায় বরফের আচ্ছাদন, আবার কোনোটির গায়ে সবুজের প্রলেপ, কোনোটি আবার ন্যাড়া হয়ে একটু গোমড়ামুখো। কোনো পাহাড় সূর্যকে আড়াল করতে ব্যস্ত, কোনোটি আবার সূর্যের আলোর প্রতিফলন আর প্রতিসরণের সূত্র মেনে স্বমহিমায় উদ্ভাসিত। প্রতিটি পাহাড় তার নিজস্বতায় অনন্য। বিভিন্ন পাহাড়ি ফুল অপরূপ শোভা। এখান থেকে জিরো পয়েন্ট গিয়ে বরফে হাঁটার জন্য গামবুট ভাড়া করা যায়। আবার ইয়ামথান উপত্যকা থেকে জিরো পয়েন্টের উদ্দেশ্যে রওনা যায়। চীন সীমান্তের কাছাকাছি, সাধারণ পর্যটকদের এই পর্যন্ত যাওয়ার অনুমতি মেলে। প্রায় সাড়ে পনের হাজার ফুট উচ্চতায় অবস্থিত জিরো পয়েন্টের অনাবিল প্রাকৃতিক সৌন্দর্য নজর কাড়বে। যারা গেছে তারা জানে যে এই পথের দৃশ্য ভাষায় বর্ণনা করা কঠিন। যত উঠবে চারদিকের পর্বতগুলোর গা সাদা শুভ্র বরফের চাদরে আচ্ছাদিত, পাদদেশে এখনো বরফ জমেনি। চীন সীমান্তের কাছাকাছি জিরো পয়েন্টে পৌঁছে মনে হবে পর্বতের চূড়ায় পৌঁছে গেছি। গাড়ি থেকে নেমে পাহাড়ের পাদদেশ ধরে পর্বতের বরফের দিকে হাটা যায়। প্রাকৃতিক ভাবে মাটিতে জমে থাকা বরফ দেখা ও ছোঁয়ার অভিজ্ঞতা, সে এক অসাধারণ ভালো লাগা। বরফের উপর শুয়ে, বসে, হেঁটে কিছু সময় কাটা যায় ছবি তুললা যায়। স্বচ্ছ নীল আকাশ, শ্বেত শুভ্র বরফাচ্ছাদিত পর্বত, হিমেল হাওয়া। কনকনে ঠান্ডায় হাতের দস্তানা খুলে একমিনিট থাকা দুষ্কর। চমৎকার কিছু মুহূর্ত স্মৃতি করে নেয়া যায়। বেশ কিছুক্ষন সেখানে মজা করা করা যায়। প্রায় সাড়ে পনের হাজার ফুট উঁচু হওয়ায় এখানে অক্সিজেন স্বল্পতা রয়েছে, কিছুটা সমস্যায় পড়তে হয়, ইয়ামথান ফিরে আসার পর শ্বাস-প্রশ্বাস আস্তে আস্তে স্বাভাবিক হয়। অপরূপ দৃশ্যগুলো দেখতে দেখতে হোটেলে ফিরা যায়। গ্যাংটক শহরে সন্ধায় পৌঁছা যায়। হোটেল চাংলো চেনে এটি ভালো হোটেল, ভাড়া কম ১২০০ রুপী, এটি এমজি মার্গের একটু পশ্চিমে নামনাম রোডে সিকিম লেজিসলেসিভ এসেম্বলি হাউজ ও রোপওয়ের ঢালুতে অবস্থিত। বেশ কিছুক্ষণ এমজি মার্গ ও লালবাজারে ঘোরাঘুরি করা এবং কিছু কেনাকাটা করা খান চাচা’স কিচেন চিকেন বিরিয়ানি খাওয়া যায়, বিরিয়ানিটা খুব সুস্বাদু।

            হোটেলের মালিকের সাথে পরের দিনের জন্য সাংগু লেকের প্যাকেজ নিয়ে কথা বলে ৩৫০০ রুপিতে পারমিটসহ সাংগু ট্যুর প্যাকেজ ঠিক করা যায়। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও কিছু অগ্রিম টাকা দিতে হয়। পরের দিন সকালে সাংগু লেক ভ্রমণের জন্য যাওয়া যায়। সাংগু যাওয়ার পথে চেক পোষ্টে পারমিট চেক হয়। কিছুদূর যাওয়ার পর অনেকটা খাড়া পাহাড়ে খাজ কাটা পিচ ঢালা রাস্তা, নিচের দিকে তাকাতে ভয় লাগবে, তবু ভালো মজা করা যায়। মাঝে মাঝে রাস্তা ধসে যাওয়ার চিহ্ন রয়েছে, সেগুলো মেরামত হয়েছে। এভাবে কিছু চলার পর ফিফটিন মাইল নামক জায়গায় এবং এখানে স্বল্প সময়ের যাত্রা বিরতিতে নুডুলস স্যুপ খাওয়া যায়। তারপর আবার পথ চলা সাংগুর রাস্তাটা লাচুংয়ের রাস্তার চেয়েও এডভেঞ্চারাস। সাংগু লেক পৌঁছে বিমোহিত। খুব সুন্দর স্বছ নীল পানির একটি লেক, প্রায় সাড়ে বারো হাজার ফুট উচ্চতায় সৃষ্টিকর্তার এক অপার্থিব নিদর্শন। ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারিতে এই লেকের পানি প্রচন্ড ঠান্ডায় বরফে রূপান্তরিত হয়। লেকের দু পাড়ে ঘোরাঘুরি করা ছবি তুলা যায়। লেকের পাড়ে একটি মন্দির রয়েছে। পর্যটকদের আকর্ষণ বৃদ্ধির জন্য মন্দিরের পাশে অনেকগুলো পোষা চমরী গরু (ইয়াক) রেখেছে স্থানীয়রা, পর্যটকরা একগুলোতে করে চড়ে লেকের পাড়ে বেড়ায় ছবি তোলে। একটি পর্বতের পাদদেশ থেকে ক্যাবল কারে করে পর্বতের চূড়ায় উঠে ঘুরে আসা যায়। যতটুকু সৌন্দর্য দেখতে পাই তা মুখের ভাষায় পরিপূর্ণ ভাবে প্রকাশ করা সম্ভব না। প্রায় ঘন্টা খানেক বেরিয়ে আবার গ্যাংটকের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়া যায় এবং দুপরের মধ্যে গ্যাংটক ফিরে আসা যায়। ফিরে এসে বিকেল থেকে সন্ধ্যায় লালবাজারে ঘুরে কেনাকাটা করে রাতের খাবার খেয়ে হোটেলে ফিরে আসা যায়। পরদিন ভ্রমণ বিরতি দিয়ে বিশ্রাম করা যায়। তখন দু-তিন মিনিট হাঁটা দূরত্বে অবস্থিত সিকিমের লেজিসলেসিভ এসেম্বলি দেখে এলাম। ছোট্ট সুন্দর একটি এসেম্বলি ভবন, ২৫ জন সদস্য নির্বাচিত হয়ে আসেন। ভূমিপুত্র হিসেবে ভারতের সাবেক ফুটবল দলের অধিনায়ক বাইচুং ভুটিয়া সেখানে খুবই বিখ্যাত। পর্যটন বান্ধব একটি রাজ্য। এরপর গেলাম পাশে অবস্থিত ক্যাবল কারে চড়তে। টিকিট কেটে সারিবদ্ধ লাইনে উঠে ক্যাবল কারে চড়া য়ায়। ধীরে ধীরে ক্যাবল কার চলতে শুরু হলে আর উম্মুক্ত হতে থাকলো পাহাড়ি রাজ্য সিকিম গ্যাংটক শহর প্রকৃতি। প্রতিটি পাহাড়ের গায়ে তৈরি ঘরবাড়ি গাছগাছালি খুব সুন্দর লাগবে। অপর প্রান্তের নিচে কারুকার্যময় একটি প্রজাপতি স্ট্যাচু দেখে ফিরেেআসা যায়। স্বল্প সময়ে ভালো রোমাঞ্চকর রাইড। এবার গ্যাংটক সিটি ট্যুরের জন্য ১৫০০ রুপিতে একটি ট্যাক্সি ভাড়া করা যায়। সিটি ট্যুরের অংশ হিসেবে আমরা হনুমানটক, গণেশটক, চিড়িয়াখানা, বোটানিক্যাল গার্ডেন, তাশি ভিউ পয়েন্ট, বাকতাং ওয়াটার ফল, রুমটেক মোনেস্ট্রি, সিকিম মিউজিয়াম ঘুরে এমজি মর্গে এসে খান চাচা’স কিচেনে লাঞ্চ করা যায়। তারপর বিকেল অবধি কেনাকাটা সেরে হোটেলে ফিরে রাতের খাবার খেয়ে এমজি মার্গে শেষবারের মতো ঘুরে হোটেলে ফিরে ঘুমানো যায়। পরদিন ফেরার পালা সকলে ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে নাস্তা সেরে হোটেল থেকে চেকআউট করে ২০০০ রুপিতে একটি টেক্সি ভাড়া করে শিলিগুড়ির বাগডোগরা এয়ারপোর্টের উদ্দেশ্যে আসা যায়। বাগডোগরা থেকে কলকাতাগামী ফ্লাইট বিকাল ৩:৪০ এ, আর কলকাতা থেকে ঢাকার ফ্লাইট রাত সাড়ে নয়টায়। সিকিম ভারতের অন্যতম একটি পরিচ্ছন্ন রাজ্য, অপরাধ নেই বললে চলে, স্থানীয়রা খুব বন্ধুবৎসল ও পর্যটন বান্ধব। সৃষ্টিকর্তার অশেষ কৃপায় সুস্থ ভাবে, সুন্দর ও সঠিক পরিকল্পনায় সিকিম ভ্রমণ সম্পন্ন করা যায়। সিকিমের অনন্য সুন্দর মুহূর্তগুলোর জন্য সৃষ্টিকর্তাকে ধন্যবাদ।

খবরটি 143 বার পঠিত হয়েছে


আপনার মন্তব্য প্রদান করুন

Follow us on Facebookschliessen
oeffnen