আন্তর্জাতিক ডেস্ক: এদেশের অনেকে মার্ক্সবাদী ক্লাসিক্যাল সমাজতন্ত্রের দোহাই দিয়ে চীনকে “পুঁজিবাদী” রাষ্ট্র হিসেবে বর্ননা করে নাক সিটকায়। কখনো কখনো এরা চীনের নেতীবাচক সমালোচনায় এতবেশী মুখর হয় যে, তা ইউরোপ আমেরিকার “গদি মিডিয়া” গুলোকে হার মানায়। ১৯৯০ সালের পর থেকে বিশ্ব এককেন্দ্রিক হয়ে যায়। আমেরিকা এককভাবে বিশ্ব মোড়লে পরিনত হয়। তখন একটা কথা চালু ছিল যে, The united States can do whatever the hell it wants. আশীর দশকে দেং শিয়াও পিং প্রবর্তিত নয়া অর্থনৈতিক নীতিমালার আলোকে চীন যে অর্থনৈতিক কর্মসূচি গ্রহন করে তার পরিনতি দুই দশকের মধ্যেই দৃশ্যমান হতে শুরু করে। এরপর তো, তাদের উন্নতি কল্পনাকে হার মানিয়েছে। রাশিয়া পরাশক্তির তকমা হারায়। রাশিয়া তার আগের অবস্থান অনেকটা ফিরে পেয়েছে। রাশিয়ার মুদ্রাস্ফীতির হার এখন ইউরোপ আমেরিকার নিচে। চীন-রাশিয়া এখন প্রায় সবক্ষেত্রে যৌথভাবে কাজ করছে। যার সুফল পাচ্ছে তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলি। আমেরিকা আর ইউরোপের শক্তিধর দেশগুলো কথায় কথায় কিউবা, ভেনিজুয়েলা, ইরানসহ এশিয়া, আফ্রিকা আর ল্যাটিন আমেরিকার দেশগুলোর উপর খবরদারী করতে পারছে না। অর্থনৈতিক অবরোধ আরোপ করলে, ওরা তা কার্যকর করতে পারে না। এর পিছনে প্রধান যে কারন, তা হলো চীনের দৃশ্যমান অর্থনৈতিক অগ্রগতি এবং ঐ দেশগুলোতে বাড়ানো সহযোগিতার হাত।

            চীনের আভ্যন্তরীণ অর্থনীতি সমাজতান্ত্রিক। বিশ্ব অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় এবং কর্মসংস্থান বাড়াতে শিল্প উৎপাদন ব্যবস্থায় সরকারি খাতের পাশাপাশি বেসরকারি খাত এবং অনেকক্ষেত্রে বৈদেশিক বিনিয়োগের সুবিধা প্রদান করেছে চীন। কিন্তু এই বেসরকারি এবং বিদেশিদেরকে দেশের বাইরে কোন উন্নয়ন কাজে অংশগ্রহনের সুযোগ দেয়া হয় না। চীনের কৃষি ব্যবস্থা পুরোপুরি সমাজতান্ত্রিক, যেখানে লোক্যাল কমিউনগুলোই কৃষিপন্য উৎপাদন বিপননে চুড়ান্ত ভুমিকা পালন করে। চীনে একটা শক্তিশালী পার্লামেন্ট (পিপলস কংগ্রেস) রয়েছে, যার সদস্য সংখ্যা ২৯৮০। সংবিধান অনুযায়ী এই পিপলস কংগ্রেসই চীনের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার সর্বোচ্চ সংস্থা। চীন ইতোমধ্যে গ্রামীন মানুষের দারিদ্র্য দুরীকরনে সফলতা পেয়েছে, যা অতি সম্প্রতি পশ্চিমা মিডিয়া ফলাও করে প্রচার করেছে। সারা বিশ্ব যখন এখনো করোনা পরিস্থিতি নিয়ে হাবুডুবু খাচ্ছে, চীন তখন কঠোর অবস্থান নিয়ে এর উত্তরনে সফলকাম হয়েছে। ইতিমধ্যে চীন ঐদেশে ১০০ কোটি মানুষকে করোনার টিকা দিতে সক্ষম হয়েছে। এই সবের রূপকার চীনের কমিউনিস্ট পার্টি এবছর তাদের জন্ম শতবার্ষিকী পালন করছে। চীনের কমিউনিস্ট পার্টি দীর্ঘজীবি হোক।

            দেং বলেছিল, বিড়াল সাদা না কালো, তা বিচার্য নয়। দেখার বিষয় হলো বিড়ালটা ইঁদুর মারতে পারে কিনা? চীন এখন সেই বিড়াল মারার সক্ষমতা অর্জন করেছে। আর কেবল তাই নয়, ২০৩০ সালে চীন বিশ্বের সর্বোচ্চ অর্থনৈতিক শক্তি হবে। যার প্রভাবে চীনের সামরিক সক্ষমতা আকাশচুম্বি হবে। লেখক: আলি জামান, সভাপতি, এস এম ই ওনার্স এসোসিয়েশন।

খবরটি 113 বার পঠিত হয়েছে


আপনার মন্তব্য প্রদান করুন

Follow us on Facebookschliessen
oeffnen